মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মন্দার বড় ঝুঁকিতে বড় বড় দেশ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২৫ এএম

করোনা মহামারী বিশ্বের অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। খাদ্য-জ¦ালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এসেছে পরিবর্তন। গত বছর থেকে মহামারী পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর আশা করা হচ্ছিল সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। কিন্তু করোনার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ে গেছে খাদের কিনারে। এসবের সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৩ সালে মন্দার কবলে পড়তে পারে বিশ্ব। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক জরিপের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ শঙ্কার তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এ বছরও মন্দার কবলে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি। তাদের মধ্যে আবার ১৮ শতাংশ মনে করেন, মন্দা তীব্র রূপ নিতে পারে। যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধির গতিতে।

প্রতিবেদনটির তথ্য বলছে, সার্বিক মন্দার বিষয়ে অর্থনীতিবিদের মধ্যে একধরনের মতৈক্য থাকলেও তীব্র মন্দার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। তবে অপেক্ষাকৃত কম দেশজ উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতির চাপে কিছু কিছু উন্নত দেশ মন্দা এড়াতে পারবে না। বিশেষ করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো আছে বেশি ঝুঁকিতে। ইউরোপে এ বছর মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫৭ শতাংশের মতো। যুক্তরাষ্ট্রও ৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশই ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি দেখেছে যা আগামীতে অব্যাহত থাকতে পারে।

চীনের ঝুঁকি অবশ্য মূল্যস্ফীতির কারণে নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন আর এককভাবে চীননির্ভর থাকতে চাইছে না। আমদানির উৎস বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। এ ছাড়া নতুন করে কভিডের ধাক্কায় টালমাটাল চীন। গত কয়েক মাসে জিরো কভিড নীতির কারণে দেশটির উৎপাদনে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এর মধ্যে রপ্তানিতে ধাক্কা খেলে মন্দার কবলে পড়তে পারে দেশটি।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদের মতে, এ বছর অর্থনীতিতে রীতিমতো ঝড় বয়ে যাবে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার স্বার্থে নানা ধরনের ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হতে পারে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যত না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক কারণে এসব ঘটবে। রাজনৈতিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করবে আর তার খেসারত দিতে হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে।

বিষয়টি হলো রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়। ইউরোপের এ সিদ্ধান্তের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এ কারণে বিপাকে পড়েছে মহাদেশটির সীমিত আয়ের মানুষরা। বস্তুত, পশ্চিমাদের এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জের টানতে হচ্ছে বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক মানুষকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক, বিশেষত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম। জরিপে অংশ নেওয়া সব শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ২০২৩ সালে ইউরোপে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হবে বলেই মনে করছেন। ৯১ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি হলেও তার হার হবে খুবই কম।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা একমত হলেও চীনের বিষয়ে তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ মনে করেন, এ বছর চীনও মন্দার কবলে পড়বে। আবার অন্যরা মনে করছেন, দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে।

গত রবিবার থেকে সুইজারল্যান্ডের আলপাইন গ্রাম দাভোসে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন। মহামারীর তিন বছরের বিচ্ছিন্নতার পর ‘বিভক্ত বিশ্বে সহযোগিতা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে আগামী শুক্রবার অবধি। সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন ২ হাজার ৭০০ জনেরও প্রতিনিধি। সম্মেলনে তারা বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের সমাধান নিয়ে কথা বলবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত