রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ক্যানসার-জয়ী রোগীর খাদ্যাভ্যাস

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০১ এএম

ক্যানসার আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পর বা যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সেই রোগীদের নানান শারীরিক ও মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই শারীরিক ও মানসিক যত্নের একান্ত প্রয়োজন। এ সময়ে যেসব খাবার খেতে পারবেন এবং যা খেতে পারবেন না জানালেন মানবিক সাহায্য সংস্থার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মকর্তা নাজিয়া আফরিন

যেসব খাবার খাবেন না : ফ্রিজে রাখা খাবার এমন রোগীদের খাওয়া যাবে না। চিনিজাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। যেসব খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি কেক-পেস্ট্রি, কোল্ড ড্রিংকস তা এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবার খাওয়া যাবে না। যেমন : আচার, চাটনি, নোনা মাছ, জেলি, পাউরুটি, অধিক চিনি ও অধিক লবণযুক্ত খাবার।  জাংক ফুড বা অতিরিক্ত ভাজাভুজি-জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্সফ্যাট থাকে। এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। শরীরের সরাসরি ক্ষতি করতে পারে এ ধরনের খাবার। যেমন: শিঙাড়া, সমুচা ও অতিরিক্ত মসলা-জাতীয় খাবার ক্ষতিকর। কিছু কিছু দুগ্ধজাত দ্রব্য খেলে রোগপ্রতিরোধ শক্তি কমে যায়। এর মধ্যে রয়েছে মাখন, চিজের মতো বেশ কিছু খাবার। এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

যেকোনো ধরনের রেড মিড বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস শরীরের জন্য মারাত্মক খারাপ। তাই এই জাতীয় মাংস বাদ দিতে হবে। বারবিকিউ-জাতীয় খাবার, অর্থাৎ যেসব খাবার সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় যেসব খাবার খাবেন না।

যা খেতে পারবেন : জাও ভাত বা নরম ভাতের সঙ্গে তেল-মসলা কম দিয়ে তৈরি তরকারি খেতে হবে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও আয়রন রাখা অপরিহার্য। তাই মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, বিভিন্ন ধরনের ডাল, বিচিজাতীয় খাদ্য, ডিম, বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল যেমন : অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, সূর্যমুখী তেলÑএসব খেলেও দ্রুত ত্বকের সৌন্দর্য ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

স্ট্রবেরি, ব্লু বেরি-জাতীয় ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এ সময় শরীরে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রনের অভাব দেখা যায়। তাই সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

হিমোগ্লোবিনের অভাব দেখা দেওয়ায় বিট রুটের শরবত বা সালাদ দেওয়া যেতে পারে। আনার বা ডালিমও খাওয়া যাবে। ফাইবার-জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-জাতীয় টক ফল রাখা লাগবে। যেমন : লেবু, জাম্বুরা, আমরা, আমলকী, আনারস ইত্যাদি মৌসুমি ফল। ভিটামিন-এ, ই খাবার বেশি করে খেতে হবে। যেমন : লাল, কমলা ফল ও সবজি এবং পালংশাক, লেটুসপাতা, ধনেপাতা, বিভিন্ন ধরনের বাদাম-জাতীয় খাবার। প্রতিদিন কয়েক কোয়া রসুন খাওয়া যেতে পারে। কেননা রসুন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের বিভিন্ন টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। বেশি করে পানি পান করা প্রয়োজন। এ ধরনের রোগীকে তরল-জাতীয় খাবার যেমন : টমেটো, ব্রোকলি, গাজর, ফুলকপি, মটরশুঁটি দিয়ে স্যুপ তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। কেননা তাদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন ও নিদ্রাহীনতা থাকায় তরল পুষ্টিকর খাবারগুলো খাওয়া অত্যন্ত উপকার। এ ছাড়া গ্রিন-টি খেতে পারবে। দুধের বদলে সয়া দুধ খাওয়া যায়। এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। রোগপ্রতিরোধ শক্তিও বাড়িয়ে দেয়।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত