মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২০২৬ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:১১ এএম

জুনেই শুরু হচ্ছে জেটি নির্মাণেরকাজ। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম করতে পারবে। এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার  নৌ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ী বন্দরের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে এমনই মন্তব্য করেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম তার কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনার প্রভাব কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ থেমে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এখন নির্মাণের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আর বলেন, বন্দরের পাশাপাশি রোড নেটওয়ার্কের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও রেললাইন নির্মাণের প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই ২০২৬ সালে শেষ হবে।

এই বন্দরকে ব্র্যান্ডিং হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর হবে এই অঞ্চলের হাব। বড় জাহাজগুলো এই বন্দরে এসে ভিড়বে এবং এখান থেকে আমাদের পাশ^বর্তী দেশ থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যাবে। এজন্য বিশে^র প্রধান প্রধান শিপিং লাইনগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও জনপথের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৬ সালের আগেই বিদ্যমান দুই লেনের সড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শেষ করা হবে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে দুটো অংশ রয়েছে। একটি অংশ হলো বন্দর নির্মাণ এবং অপর অংশটি হলো সড়ক ও জনপথের আওতাধীন রাস্তা নির্মাণ। বন্দর নির্মাণ অংশের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান বলেন, ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পে বন্দর অংশে রয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং সড়ক ও জনপথ অংশে রয়েছে ৮ হাজার ৮২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস জেটি এবং ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি কনটেইনার জেটি নির্মিত হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ শেষে ২০২৬ সালে ১১ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করতে পারবে এই বন্দর। এই বন্দরে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ ও ১৬ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এছাড়া একটি জাহাজে করে ৮ হাজার ২০০ একক কনটেইনার পর্যন্ত পণ্য আনা যাবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজগুলো সর্বোচ্চ ২৭০০ কনটেইনার পর্যন্ত এনে থাকে।

মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ইউনিয়নের সাগর উপকূলে নির্মিত হচ্ছে মাতারবাড়ী বন্দর। বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৩৫০ মিটার চওড়া  ও ১৬ মিটার গভীরতায় ড্রেজিং করে নির্মাণ করা হয়েছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেটি। এখন বন্দরের জন্য জেটি নির্মাণ করা হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের আওতায় ইতিমধ্যে নির্মিত জেটিতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মিত জেটিতে গত এক বছরে ১১২টি জাহাজ ভিড়েছে। এসব জাহাজে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও ইকুইপমেন্ট এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নেয় সরকার। জাইকার অর্থায়নে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৬ মিটার ড্রাফট (গভীরতা) এবং ২৫০ মিটার চওড়া চ্যানেল নির্মাণ হয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায়। ইতিমধ্যে ১৪ মিটার ড্রাফট করাও হয়েছে। তবে ‘মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ড্রাফট ১৬ মিটারে উন্নীত করা হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকার জোগান দেবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মাতারবাড়ী চালু হলে এর সঙ্গে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রাবন্দরের সঙ্গে নেটওয়ার্ক আরও বাড়বে। কারণ বড় জাহাজগুলো মাতারবাড়ীতে পণ্য নিয়ে আসবে। সেখান থেকে ছোটো জাহাজে করে দেশের অন্যান্য বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। ফলে গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব পূরণ করবে মাতারবাড়ী বন্দর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত