বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিকিমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অভিনব উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৫ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হতে চলছে ভারত। দেশটির অধিকাংশ রাজ্যে যখন জনবিস্ফোরণ তখন উল্টো চিত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই কম এমন ভারতীয় রাজ্যগুলোর একটি সিকিম। তাই জনসংখ্যা বাড়াতে এ রাজ্যে অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে সিকিম সরকার। প্রদেশটির সরকারি চাকরি করা নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটির বেশি সন্তান নিলে প্রণোদনা দেবে রাজ্য সরকার। দুটি বা এর অধিক সন্তান নিলে নারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি সন্তান লালনপালনে কর্মী রাখলে তার বেতনও দিতে চায় সিকিম সরকার। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এ বিশেষ প্রস্তাব রেখেছেন। সম্প্রতি সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে এক অনুষ্ঠানে প্রেম সিং বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের মধ্যে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা খুবই কম। এটা সিকিমের জন্য বড় একটি সমস্যা। এ প্রবণতা দূরীকরণে আমাদের অবশ্যই কিছু করতে হবে।’

প্রস্তাবনায় সরকারি চাকরি করা নারী যদি দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন, তাহলে এক দফা বেতন বাড়বে। তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে বেতন বাড়বে আরেক দফায়। এরই মধ্যে যারা একাধিক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তারাও এ আর্থিক সুবিধা পাবেন। যে নারীরা স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান ধারণ করতে পারছেন না, তাদের আইভিএফের মাধ্যমে সন্তানধারণ করতে ৩ লাখ রুপি বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সেখানে বাড়ানো হয়েছে সরকারি কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটিও। নতুন সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সিকিমের সরকারের নারী কর্মীরা এবার থেকে ৩৬৫ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। পাশাপাশি এক মাস করা হয়েছে পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ। তাছাড়া নারী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সন্তান লালনপালনের জন্য বাড়িতে সহায়তাকারী রাখলে সেই অর্থও রাজ্য সরকার দেবে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের এক বছরের জন্য এ কাজে নিযুক্ত করা হবে। তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার রুপি করে বেতন পাবেন।

সিকিমের জনসংখ্যা মাত্র সাত লাখ। কয়েক বছর ধরে রাজ্যটি জন্মহার (টিএফআর) নিয়ে সমস্যায় ভুগছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সিকিমে টিআরএফ সবচেয়ে কম, মাত্র ১ দশমিক ১।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত