বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিক্রি বাড়াতে ছাড়ের নামে প্রতারণা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:১৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৭তম আসর। ১ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর দেখতে দেখতে মাসব্যাপী মেলার এ বছরের আয়ুষ্কাল শেষের দিকে চলে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ২৪তম দিন সরকারি ছুটির দিন না হওয়ার পরও মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। আর এসব ক্রেতা টানতে ব্যবসায়ীরা বাহারি সব ছাড় দিচ্ছেন তাদের নিজ নিজ পণ্যে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ভালোমানের প্রতিষ্ঠিত কিছু কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ স্টল মালিক ছাড়ের নামে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অনেক স্টলেই নির্ধারিত পণ্যের ওপর চড়া মূল্য বসিয়ে আকর্ষণীয় ছাড়ের নামে তা বিক্রি করা হচ্ছে। আর ক্রেতারা এই মূল্যছাড়ের ফাঁদে পা দিয়ে বোকার মতো পণ্য কিনছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলার এবারের আসরে মোট ৩৩১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরএফএল, বেঙ্গল, নেসলে, আকতার ফার্নিচার, নাদিয়া ফার্নিচার, হাতিল ফার্নিচার ও স্কয়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বহু অপরিচিত প্রতিষ্ঠানও অংশ নিচ্ছে মেলায়। নামীদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি মূল উদ্দেশ্য নয়। তারা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের কাছে নিজেদের পণ্যকে পরিচিত করাতে মেলায় অংশ নেয়। তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মেলায় আসে বেশি মুনাফার উদ্দেশ্যে। মেলার প্রথম দশ দিন জমে না উঠলেও এরপর থেকে পুরোপুরি জমে ওঠে মেলা। শেষের দিকে হওয়ায় মেলায় দর্শনার্থী-ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। আর বেশি বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যে বিভিন্ন রকম ছাড় দিচ্ছেন। এই ছাড় পেয়ে ক্রেতারাও পণ্য কিনছেন নিজেদের পছন্দমতো। মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গৃহস্থালি পণ্যের স্টলগুলোতে। গৃহস্থালি পণ্যের দোকানগুলোতে ‘একটি আইটেমের পণ্য কিনলে নয়টি আইটেম ফ্রি’ এমন সব লোভনীর ছাড় দিতে দেখা গেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব পণ্যের গায়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি দাম লিখে এমন অস্বাভাবিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ছাড়ের নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। একই চিত্র দেখা যায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। সেখানেও ছাড়ে পণ্য বিক্রির নামে চলছে প্রতারণা। মেলার ভেতর স্টলগুলোতে এসব পণ্য ছাড়কৃত যে দামে বিক্রি করা হচ্ছে, বাইরের অন্যান্য মার্কেটে তা ছাড় ছাড়াই একই দামে বিকোচ্ছে। এ ছাড়া দেশীয় কাপড় বিদেশি বলে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

রূপগঞ্জের রূপসী কাজীপাড়া এলাকা থেকে মেলায় এসেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসেছিলাম পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। স্টলগুলোতে ছাড় দিয়ে পণ্যের দাম যা ধরা হয়েছে, এর চেয়ে কম দামে বাইরের দোকানে পাওয়া যায় সেই পণ্য; যা অনেক হতাশাজনক। এতে করে অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন।’

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে আসা মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘ঘরের জন্য কিছু গৃহস্থালি পণ্য কিনতে মেলায় এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখলাম, অনেক প্রতিষ্ঠানই ছাড়ের নামে প্রতারণা করছে। এ ছাড়া যেসব কাপড় নিউমার্কেটে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়, তা মেলায় ছাড় দিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে আসা আফতাব হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। কাপড়ের দোকানে গিয়ে দেখি দাম অনেক বেশি। অনেক দোকানেই পণ্যের ওপর মূল্যছাড়ের কাগজ লাগানো। ১ হাজার ১ হাজার ৫০০ টাকার জিনিসে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দাম লাগিয়ে ৪০% থেকে ৫০% ছাড় দিয়ে বিক্রি করছে। এটা ঠিক না। এসব বিষয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের নজর দেওয়া উচিত। না হয় মেলায় আসার আগ্রহ হারাবে মানুষ।’

ছাড়ের নামে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা অনেক টাকা দিয়ে মেলায় স্টল নিয়েছেন। তা ছাড়া দোকানের কর্মচারীর চড়া বেতন এবং মেলা এলাকায় অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া গুনে থাকতে হচ্ছে। বাড়তি এই ব্যয় সমন্বয় করতে গিয়ে পণ্যের দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাড়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ মিথ্যা। মেলা শেষের দিকে হওয়ার কারণে তারা নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মেলায় আগের চেয়ে লোকসমাগম বেড়েছে। মেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোথাও কোনো অসংগতি পেলে তারা জরিমানা করছে ব্যবসায়ীদের। এ ছাড়া ভোক্তারা চাইলে অভিযোগ করতে পারবে ভোক্তা অধিদপ্তরের কাছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত