বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্রেক্সিটে ব্রিটিশ বোধোদয়

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গত কয়েক বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ব্রেক্সিটের তৃতীয় বার্ষিকী আজ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে তিন বছরে যুক্তরাজ্যের লাভ-লোকসান নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলমান। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভরা মুখে ব্রেক্সিটের মুনাফার কথা প্রচার করেই যাচ্ছে। অন্যদিকে আদতে ইউরোপীয় জোট থেকে বেরিয়ে দেশটির আখেরে কতটুকু লাভ হলো এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ‘ব্রেক্সিট পুরোপুরি এক বিপর্যয়, সম্পূর্ণ মিথ্যার ভিত্তিতে গড়া’ বলে মন্তব্য করেছেন খোদ ব্রিটিশ রক্ষণশীল ঘরানার ব্যবসায়ী গাই হ্যান্ডস। ব্রেক্সিটের তিন বছরে তার এই দৃষ্টিকোণের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। যুক্তরাজ্যের নামকরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টেরা ফার্মার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গাই হ্যান্ডস বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উভয়ের জন্যই লোকসানি সিদ্ধান্ত। ইউরোপ যেমন অনেক কিছু হারিয়েছে তেমনি আমরাও (যুক্তরাজ্য) কম কিছু হারাইনি।’

ব্রেক্সিট কার্যকর করে বরিস জনসন যে আশা দেখিয়েছিলেন তারপরে লিজ ট্রাস তা আরও মিথ্যা-দিবাস্বপ্নের দিকে নিয়ে গেছেন বলে মনে করেন হ্যান্ডস। তিনি বলেন, ‘লিজ ট্রাস তো ব্রিটেনকে একেবারে সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন, যেটা আদৌ হওয়ার ছিল না।’ ব্রেক্সিটে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় সংকটের দিকটি নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ পার্টিতে অনুদান দেওয়া ব্যবসায়ী হ্যান্ডস। তার ভাষ্য, ‘ব্রিটিশ জনগণ স্বাস্থ্যসেবায় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস-এর বিলুপ্তি মেনে নেবে না। একইভাবে শিক্ষায় ব্যয় সংকোচন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়াকে মানবে না।’  তার মতে, বরিস জনসন ব্রেক্সিট নামের ‘বাসে’ চড়ানোর বদলে দেশকে,  স্বাস্থ্য খাতকে এবং এনএইচএসকে ব্রেক্সিট বাসের নিচে ফেলে দিয়েছেন। গার্ডিয়ান বলছে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে মারাত্মক পরিস্থিতিতে ফেলেছে, দেখা দিয়েছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংকট। ৪ হাজারেরও বেশি ইউরোপীয় চিকিৎসক এনএইচএস থেকে সরে গেছেন।  

সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে ব্রেক্সিটের পক্ষে থাকা ব্রিটিশদেরও যেন মনে বদল আসছে। জরিপ বিশেষজ্ঞ জন কার্টিস গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এখনকার জরিপগুলোর গড় ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ৫৭ শতাংশ ব্রিটিশ এখন আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে। এদিকে ব্রেক্সিটের ইতিবাচক ফলাফলের সাফাই গেয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। তবে খোদ রক্ষণশীল শিবিরের নেতাদেরও ব্রেক্সিট নিয়ে বরিস জনসনের মতো অতি প্রচারণার বদলে এখন মার্জিতভাবে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।  ব্রেক্সিটের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার ৩ বছরে আমরা ৭০টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পেরেছি, সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি।  আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথ করতে পেরেছি। আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

তবে গার্ডিয়ান বলছে, অন্তত এই সময়ে ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ কথাটার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস বলছে, উন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের মধ্যে একমাত্র যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এ বছর শেষে আরও সঙ্কুচিত হবে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যায় যুক্তরাজ্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত