মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আনন্দে আত্মহারা শিশুরা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:২০ এএম

অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন শুক্রবারের শুরুটা যেন শিশুদেরই। শীতের নরম রোদ তখন কর্কশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মা-বাবার হাত ধরে আসা শিশুরা কি আর রোদের ভয় পায়! শিশুপ্রহর জমে উঠল ওদের কলকাকলীতে।

মেলার শুক্র ও শনিবার দুদিন ঘোষিত ‘শিশুপ্রহর’। মেলার দুয়ার খোলার আগে থেকেই মা-বাবার হাত ধরে মেলায় হাজির হয়েছে ছোট্ট শিশুরা। শিশুচত্বর ঘুরে বিভিন্ন লেখকের বই কিনতে দেখা যায় খুদে পাঠকদের। বাবার হাত ধরে মেলায় এসেছে ক্লাস থ্রিতে পড়া সোনামণি ফারিয়া মাহবুব। সে দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘মেলা থেকে নতুন তিনটি বই কিনেছি। বাবা বলেছে, এগুলো শেষ হলে আরও নতুন বই কিনে দেবে।’

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছুটির সকালে প্রাণের মেলায় বই কেনার চেয়ে ঘুরে ঘুরে বই দেখার প্রতিই মনোযোগ বেশি। এ সময় অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, ঐতিহ্য, বাতিঘর, অ্যাডর্ন, বেঙ্গল পাবলিশার্স, মাওলা ব্রাদার্স, প্রথমাসহ বিভিন্ন স্টলে ভিড় ছিল।

কয়েকজন প্রকাশক জানান, অন্যবারের তুলনায় মেলায় এবার জনসমাগম বেশ ভালো। বইপ্রেমীরা আসছেন, বই দেখছেন। সংখ্যায় কম হলেও বই কিনছেন অনেকেই। এটা তাদের জন্য আশাজাগানিয়া।

সহপাঠীদের নিয়ে মেলায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শীলা বিনতে রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) শুক্রবার, এ জন্য বই কিনব এবং ঘুরব বলে এসেছি। কারণ অন্যদিন ক্লাস থাকে তাই মেলায় এসে মজা করা যায় না। এখন প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখে বই কিনতে পারব।’

এবারের বইমেলায় প্রথম শিশুপ্রহর শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা শিশুচত্বরে শিশুপ্রহর উদ্বোধন করেন। মাসব্যাপী এ মেলায় সপ্তাহের দুদিন শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুদের জন্য, এ সময়টাকে ঘোষণা করা হয় শিশুপ্রহর হিসেবে।

বইমেলায় শিশুচত্বরটি এবার বাংলা একাডেমির মন্দিরের পাশের গেট দিয়ে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে। শিশুচত্বরে এবার ৭১টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিনে নতুন বই এসেছে ৯৬টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্মরণায়োজন। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুতুব আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জালাল ফিরোজ এবং এম আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা নূহ-উল আলম লেনিন। মূল প্রাবন্ধিক বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত লেখক-পাঠক-ভাবুক-বিশ্লেষক-গবেষক-অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিক এক বর্ণিল ও বিচিত্র প্রতিভা। ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার আজীবন চলার পাথেয়। তার বিপুল গ্রন্থরাজি, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নানা প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গবেষণাপত্র দেশব্যাপী পাঠককুলের সঙ্গে তাকে এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ করে। সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন সংস্কৃতিমান ও রুচিবান আত্মনিবেদিত দেশকর্মী। নানা বিবেচনায় মনস্বী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্মোহ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

আলোচকরা বলেন, বর্ণিল কর্মজীবনের অধিকারী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধারে লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে তিনি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। শিক্ষা-দীক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছিলেন বলে আজীবন তিনি ছিলেন বইপ্রেমী। গবেষণা ও লেখালেখির প্রতি তার যেমন আগ্রহ ছিল, তেমনি বাঙালির মূলধারার আন্দোলনের সঙ্গেও ছিলেন ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি যেমন প্রশাসক, কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ হিসেবে সফল, তেমনি নিষ্ঠাবান গবেষক ও লেখক হিসেবেও অনন্য।

সভাপতির বক্তব্যে নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, ‘আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন বিরলপ্রজ বাঙালি। মেধা-মননে, শিক্ষা-দীক্ষায় আলোকিত আবদুল মুহিত শুধু একজন সার্থক অর্থমন্ত্রীই ছিলেন না; মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, সত্যবাদী ও দেশপ্রেমিক। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী তার জীবন ও কর্ম তরুণ প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।

‘আজ লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন আহমদ বশীর, সুজন বড়ুয়া, রাজীব সরকার ও হারিসুল হক। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি তারিক সুজাত, কুমার চক্রবর্তী ও সুপ্রিয়া কুন্ডু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী, ঝর্ণা সরকার ও আহসানউল্লাহ তমাল। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্য সংগঠন ‘বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)’-এর নৃত্যশিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, শাহনাজ নাসরিন ইলা, মো. হারুন অর রশীদ এবং মুহা. আব্দুর রশীদ।

এমন আনন্দের মেলায়ও অভিযোগ কিন্তু ছিল, লিটলম্যাগ চত্বরে এখনো জ্বলেনি বাতি। লিটলম্যাগ কর্মীরা এতে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও টনক নড়ছে না মেলা আয়োজক কমিটির।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত