বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সহকারী কোচ দেশি না বিদেশি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২২ এএম

হেড কোচ নিশ্চিত, এবার তার সহকারী নির্বাচনের পালা। ১ মার্চ থেকে শুরু ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই চন্দিকা হাথুরুসিংহের সহকারী নির্বাচনের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিসিবি। সেই তালিকায় বিদেশি কোচ যেমন আছেন তেমনি দেশি কোচরাও বাদ নেই। দুই তালিকাতেই একাধিক কোচকে রেখে এগোচ্ছে বোর্ড। তবে বিদেশি শেষ পর্যন্ত না পাওয়া গেলে সহকারী হিসেবে দেশি কোচই দীর্ঘমেয়াদে বিসিবির ডাক পাবেন।

টানা খেলার চাপ থেকে একটু বিরতি নিতে হাথুরু ছুটিতে গেলে সহকারী কোচ জাতীয় দলকে সামলাবেন। এমন গুরু দায়িত্ব কোনো সিরিজে পড়ে গেলে তা স্থানীয় কোচদের পক্ষে সামলানো কঠিন। এজন্য বিদেশিতে নজর বিসিবির। হাথুরুসিংহের নিয়োগের ঘোষণার দিনেই এই আভাস দিয়েছিলেন বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন, ‘আমরা এমন একজনকে খুঁজছি যাকে হেড কোচ পছন্দ করবে। আমাদের সূচিতে এত খেলা যে, একজন কোচের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। আমরা একজন সহকারী কোচ নিয়োগ দেব, তালিকায় ৫ জন আছে। এর মাঝে উপমহাদেশের তিনজন। তারা দেশে এসে সাক্ষাৎকার দেবে।’ বিসিবির চিন্তা জুড়েই শ্রীধরন শ্রীরাম আছেন এখনো। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এই কোচের। তাকেই ছোট ফরম্যাটের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু আইপিএল ছুটি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এখনো দুপক্ষের আলোচনা ‘আলোনাধীন’ রয়েছে। তাই বারবার, ‘আমি এখনো কিছু জানি না’ বলে যাওয়া শ্রীরাম কালও একই কথা জানালেন দেশ রূপান্তরকে।

বাংলাদেশ দলে দেশি কোচদের সহকারী হিসেবে থাকা নতুন কিছু নয়। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন। এরপর ২০০৯-১০ মেয়াদে খালেদ মাহমুদ সুজন সহকারী কোচ ছিলেন। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশিবার জাতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন সোহেল ইসলাম। ২০১৪ সালে প্রথমবার ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত হওয়া এই স্পিন বোলিং কোচ পরে স্পিন কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ ২০২১ সালে পাকিস্তান সিরিজে স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথের বদলি হিসেবে খ-কালীন দায়িত্ব পালন করেন। 

জাতীয় দলের সহকারী হিসেবে তাই পূর্ব অভিজ্ঞতার বিচারে সোহেল ইসলাম-ই সবচেয়ে এগিয়ে। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে কোচ হিসেবে অনেকটা এগিয়ে যাবেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের এই কোচ, ‘লম্বা সময়ের জন্য রাখলে, সুযোগ পেলে তো অবশ্যই ভালো হয়। এভাবেই তো দেশি কোচরা এগিয়ে যাবে, মানে শুরুতে সহকারী কোচ থাকবে এরপর মূল কোচ হবে। এই দায়িত্ব পেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের কীভাবে সামলাতে হয়, কী কাজ করতে হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার থাকে এগুলো শেখা হবে। সবসময় তো বিদেশি কোচের ওপর নির্ভর করার বিষয়... মানে নিজেদের কোচদেরও তো উন্নত করা বা তৈরি করতে হবে। সহকারী কোচ হিসেবে দেশিদের যে অভিজ্ঞতা হবে, সেটা তারা নিজেরা যখন দেশের দলগুলোর কোচ হবে সেখানে আন্তর্জাতিকের অভিজ্ঞতা কিন্তু কাজে লাগাতে পারবে।’

আগে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা সালাহউদ্দিন অবশ্য একই পদে ফিরতে চান না, ‘হাথুরুসিংহের মানসিকতা কেমন, সে কেমন কোচ তা আমি জানি না। আমি যার সঙ্গে কাজ করব তার ব্যাপারে আমার জানা দরকার। কারণ আমার এখন যে বয়স, নিজে থেকে এডজাস্ট করার মেনটালিটি আমারও আছে কি না আমি জানি না। কারণ গত ৫-১০ বছর ধরে প্রধান কোচ হিসেবে (ফ্র্যাঞ্চাইজিতে) আমি নিজেই কাজ করছি। এখন সহকারী কোচের রোলটা আমি পারব কি না, আমার সেই সার্বিক ক্ষমতা আছে কি না তাও দেখতে হবে। কারণ সহকারী কোচদের কাজ অনেক বেশি। তো বোর্ডে যারা এমপ্লয়ি আছে (বিসিবি কোচ পদে), তাদের মধ্যে থেকে দিলে তারা সেরা ফলটা পাবে।’

হাথুরুকে আবার কোচ করে ফিরিয়ে আনাটা সমর্থন করছেন না সালাউদ্দিন। তার তির্যক মন্তব্য, ‘আমরা (বিসিবি) যেভাবে হাথুরুসিংহেকে চেয়েছি, তার কাছে নিশ্চয়ই অনেক জাদুর কাঠি আছে। কারণ তা না হলে আসলে এভাবে আমরা... কেউ একজন হঠাৎ করে চলে গেছে, তাকে আবার আমরা জোর করে আনছি। নিশ্চয়ই জাদুর কাঠি কিছু আছে। তবে নিশ্চয়ই সবাই আশা করে অনেক ভালো ফল হবে।’

ভালো ফল দেশিদের অধীনে হয় না যে তা নয়, এবার বিপিএলে দুই বিদেশি কোচের দল ঢাকা ও চট্টগ্রামের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। তার চেয়ে দেশি কোচদের দলগুলোয় ভালো করেছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক আর ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যবধানটা অনেক। দেশিরা সহকারী হিসেবে থাকলে সেই ব্যবধানটা বুঝবেন। দিন শেষে অবশ্য সিদ্ধান্তটা বিসিবিরই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত