বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্যানেল মেয়রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:০৫ পিএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার ১নং প্যানেল মেয়র আব্দুল কাদের মিয়ার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা সিদ্দিকাকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিলা কাউন্সিলর বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত প্যানেল মেয়র আব্দুল কাদের।

অভিযুক্ত আব্দুল কাদের প্যানেল মেয়রের পাশাপাশি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ভুক্তভোগী আয়েশা সিদ্দিকী সংরক্ষিত-৩ নং ওয়ার্ডের
(৭, ৮ ও ৯) মহিলা কাউন্সিলর।

মামলার এজাহার সূত্রে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, আমি ঘোড়াঘাট পৌরসভার দুইবারের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর (৭,৮,৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারী প্রতিনিধিদের অনেক সময় নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়। যৌন হয়রানি এমনকি ধর্ষণের শিকার পর্যন্ত হতে হয়। তারপরও নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মুখ বুজে মেনে নিয়ে জনসেবার জন্য কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন যাবত প্যানেল মেয়র আমাকে নানাভাবে
যৌন হয়রানি করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভায় একা পেলে তার লালসা পূরণের জন্য কুপ্রস্তাব দিয়ে আসত এবং সুযোগ বুঝে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিত। সম্মানের ভয়ে মুখ বুঝে সহ্য করে গেছি, কাউকে কিছু বলতে পারিনি।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, শনিবার (২১ জানুয়ারী) কাদের মিয়ার পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে যৌন লালসা পূরণের জন্য
দুপুর ১২টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন থেকে কল করে আমাকে তার বাড়িতে আসতে বলেন । আমি ভয় পেয়ে না যাওয়ার জন্য নানা অজুহাত দেই।

এই নারীলোভীর কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য কৌশলে ফোনের কল রেকর্ড করি। ফোনে কথা বলার পরও তার বাসায় যাইনি। তখন তিনি আমার অবস্থান বুঝতে পেরে পৌরসভায় আসেন । কাউন্সিলরদের কক্ষে আমি একা বসে থাকা অবস্থায় বিকেল ৩ টায় পিছন দিক থেকে আমাকে ঝাপটা দিয়ে ধরেন।


এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে মেয়রকে মৌখিক ভাবে অবগত করে বাড়িতে চলে যাই। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে ২৩ জানুয়ারী
মেয়রকে লিখিত অভিযোগ দেই এবং ৩ ফেব্রæয়ারি রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করি।


ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল মেয়র আব্দুল কাদের মিয়ার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘোড়াঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের
হয়েছে। আসামী পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নি। আমরা আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত