বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেয়েদের আরেকটি শিরোপা!

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০২ এএম

পরপর তিনটি বাংলাদেশ-নেপাল ফাইনাল। একটায় বাংলাদেশের জয়। আরেকবার নেপালের। তৃতীয় ফাইনালের মঞ্চটা হবে কার? এই প্রশ্নের জবাব মিলবে আজ। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এই দুই দেশ। গত বছর সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুতে সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সাবিনা-কৃষ্ণারা। সেই হারের প্রতিশোধ দুমাস পর ঢাকায় নিয়েছে নেপালের অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েরা। তিন দলের আসরে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পেয়ে প্রথমবারের মতো সাফের কোনো আসরের শিরোপা জিতে নেয় নেপাল। সাম্প্রতিককালে মুখোমুখি লড়াইয়ে আজ তাই এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি দুদলের সামনেই।

সাফের বয়সভিত্তিক আসরগুলোতে প্রথম থেকেই আধিপত্য দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে শুরু। এ পর্যন্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বয়স শ্রেণিতে মোট সাতটি আসর আয়োজন করেছে। যার তিনটিতে বাংলাদেশের মেয়েরা শিরোপা জিতে নেয়। বাকি চারবার রানার্স-আপ। ২০১৮ সালে নেপালকে অনূর্ধ্ব-১৮ আসরের ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানেও আজ দুদলের এগিয়ে যাওয়ার দিন। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে সাত পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনালে আসা বাংলাদেশের সম্ভাবনাই আজ বেশি। লিগপর্বে নেপালকে স্বাগতিকরা হারিয়েছিল ৩-১ ব্যবধানে। তবে আজ নেপালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটি আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারতকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে উঠে এসেছে ফাইনালে। তাই তো ছোটনের কথায় নেপালের প্রতি সমীহ স্পষ্ট, ‘ফাইনাল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ হবে। আশা করি, দর্শকরা উপভোগ করতে পারবে। অবশ্যই নেপাল ভালো দল। গতকাল (মঙ্গলবার) ভারতের বিপক্ষে ওরা জিতেছে। ভারত খুবই শক্তিশালী দল। আমি মনে করি, আগামীকাল (আজ) খুবই ভালো ম্যাচ হবে। ভিন্ন একটি ম্যাচ হবে। নেপাল আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে।’

আসর শুরুর আগে ফাইনাল খেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন ছোটন। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এবার রাতটা নিজেদের করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটা স্বাভাবিক ফুটবল খেলে উতরে যাওয়ার প্রত্যাশা ছোটনের, ‘আমাদের যে লক্ষ্য ছিল মেয়েরা সেটা পূরণ করেছে। আমরা শীর্ষ দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছি। আরেকটা ম্যাচ বাকি আছে। যেহেতু ফাইনালে উঠেছি, আমাদের লক্ষ্য বিগত দিনে মেয়েরা কমলাপুরে যে ফুটবল উপহার দিয়েছে, সেটা অব্যাহত রাখবে এবং আমরা ফাইনাল জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’ গত বছর ভারতের জামশেদপুরের অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ আসরে নেপালকে গ্রুপপর্বে দুবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ছোটনের চাওয়া ধারাটা বজায় থাকুক আজও, ‘নেপালের সঙ্গে আমরা খেলেছি। ওদের খেলাও দেখেছি। ওদের শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছি। আমরা আমাদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব।’

ভুটানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শামসুন্নাহার। খেলা চলাবস্থায় একটা সময় ভুটানের খেলোয়াড়রা তাকে এসে অনুরোধ করেছিল আর বেশি গোল না করার। সে কথা কাল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার দশা তার, ‘একটা সময় ভুটানের বেশ ক’জন ফুটবলার আমার কাছে এসে বলে পানি খাও, আর গোল দিয়ো না (হাসি)। অনেকে বলেছে তোমার খেলার ফ্যান হয়ে গেলাম। আবার খেলা শেষে সবাই আমাকে ঘিরে ছবিও তুলেছিল।’ আজকের ফাইনাল নিয়ে এই ফরোয়ার্ড প্রত্যয়ী কণ্ঠে বলেন, ‘ফাইনালের লক্ষ্য পূরণের পর চেষ্টা থাকবে ঘরের মাঠে ট্রফি রেখে দেওয়ার। প্রথম ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলব। খেলার মধ্যে আসা সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’ চার গোলে আসরের সেরা গোলদাতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ শামসুন্নাহারের সামনে। তবে এ নিয়ে একদমই ভাবছেন না অধিনায়ক, ‘দল সবার আগে। আমি চেষ্টা করব দল যেন জয় পায়। গোলের সুযোগ আমার বেলায় যদি ৫০ শতাংশ থাকে, আর অন্যের যদি ৭০ শতাংশ থাকে, তাহলে আমি তাকে দিয়েই গোল করানোর চেষ্টা করব। কারণ এখানে দলের ফল আগে।’

ভারতের বিপক্ষে জয়টাই বদলে দিয়েছে নেপালের মানসিকতা। শিরোপা জয়টা তাই তাদের কাছে অসম্ভব স্বপ্ন নয়। কোচ ইয়াম প্রসাদ গুরং বাংলাদেশকে খেলা দিয়েই চমকে দেওয়ার কথাও বলেছেন, ‘আশা করি আমরা প্রতিশোধ নিতে পারব এবং আমরা জিতব। মাঠ, দর্শক এবং অন্যান্য দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। আমরা ভিন্ন কৌশলে খেলব। সবকিছু বদলাবে। আমরা বাংলাদেশের দুর্বল দিক জানি এবং তাদের সেই দুর্বল দিক আমাদের জন্য সুবিধার।’ ভারতের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল নেপাল। সেই ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য ছিল অধিনায়ক প্রীতি রায়ের। নেপাল সিনিয়র দলের এই সদস্য বলেন, ‘ফাইনালে উঠতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা ট্রফি পাওয়ার যোগ্য।’

আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচেই বোঝা যাবে রাতটা হবে কার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত