বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংসদে জিএম কাদের

টেলিফোনে আড়ি পাতা সংবিধান লঙ্ঘন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৭ এএম

সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলেন এমন ব্যক্তিদের স্মার্ট ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে এ অভিযোগ করে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বিশেষ ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের ফোনে আড়িপাতা অনৈতিক ও বেআইনি। এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিশ্বের ২৭টি নামিদামি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিশ্বের ৪৫টি দেশে স্মার্ট ফোনে আড়িপাতার জন্য একটি গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। সে তালিকায় বাংলাদেশও আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্মার্ট ফোনে আড়িপাতার জন্য “পিয়ারহেড বা স্পাইওয়ার” ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ৫৭ লাখ ইউএস ডলার ব্যয়ে ইসরায়েলি কোম্পানি থেকে এ আড়িপাতা প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ; যা সুস্পষ্টভাবে আমাদের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদের ৪৩ ধারায় লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে প্রত্যেক নাগরিকের নিয়মিত কথা বলা ও মনোভাব আদান-প্রদান করতে পারবে, এটা তার জন্মগত অধিকার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া স্পাইওয়ার বা যেই প্রযুক্তি ব্যবহার করুক না কেন, তা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলা যায়। যেকোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার ফোনে আড়িপাতা অনৈতিক ও সংবিধান পরিপন্থী। এগুলো ব্যবহৃত হয় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড জানার জন্য। কিন্তু আমাদের এখানে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে যারা সরকারের বিরোধিতা করে তাদের ফোনালাপ, মেসেঞ্জারে নিয়মিত আড়িপাতা ও রেকর্ড করার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কি এসব ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহী মনে করে এসব করছে? তাহলে গণপ্রজাতন্ত্রী অর্থাৎ যেখানে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, সেখানে রাষ্ট্র কি এটা করতে পারে? তাহলে সরকারি দল ও রাষ্ট্র কি একীভূত হয়ে গেছে? এমনটি হলে সেখানে সুশাসন দেওয়া সম্ভব হবে না।’

জিএম কাদের বলেন, ‘আর একটা হতে পারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা। এ ধরনের আড়িপাতার কর্মকাণ্ড এ দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’ তিনি এর বিরোধিতা করে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান।

নিরাপদ সড়ক আইনের বাস্তবায়ন সরকার কেন করছে না সে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘যে আইনটি এই জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হলো, তা কার স্বার্থে, কাদের রক্ষার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।’ এর প্রতিবাদে সংসদে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব আনা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজধানীর বায়ুদূষণের চিত্র তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশ থেকে রাজধানী ঢাকায় এখন দূষণের মাত্রা এত বেশি যে, বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, নানারকম ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ এটি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব অকৃত্রিম’ : জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চিফ অব পলিটিক্যাল স্কট ব্রান্ডন এবং পলিটিক্যাল অফিসার ম্যাথুইউ বে। গতকাল দুপুর ১২টায় তার বনানী কার্যালয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা এলে তাদের স্বাগত জানান জাপা চেয়ারম্যান। এ সময় জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বিশেষ দূত মাসরুর মওলা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি-২ খন্দকার দেলোয়ার জালালী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সাক্ষাতের বিষয়ে জানান। বৈঠকে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব অকৃত্রিম। আগামী দিনেও অভিন্ন ইস্যুতে দুটি দেশ একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত