বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফের রাজনীতির মাঠে সেই আব্বাস

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৫১ এএম

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জেলে গিয়েছিলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলী। এরপর জেলে ছিলেন টানা এক বছর। এরই মধ্যে হারিয়েছেন মেয়র ও দলীয় পদ। তবে জামিনে বেরিয়ে জেলগেট থেকেই আবারও রাজনীতির মাঠে তিনি। হারানো পদ-পদবি ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। মেয়রের পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিটও করেছেন। আর দলীয় পদ ফিরে পেতে পালন করছেন নানা কর্মসূচি। এরই মধ্যে আব্বাসের অনুসারী নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুঞ্জন চলছে, তাহলে কি আবারও আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতিতে ফিরছেন আব্বাস? কাঁটাখালীর তৎকালীন পৌর মেয়র আব্বাস আলী বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়েন। একটি ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বানানোর বিপক্ষে কথা বলেই ফেঁসে যান তিনি। এরপর এক বছর জেল খেটে বের হওয়ার পরপরই রাজশাহী শহরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানান আব্বাস। তার পর থেকেই নিজের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৫ সালে কাটাখালী পৌরসভা নির্বাচনে দলের টিকিটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আব্বাস। তবে ২০২০ সালে পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ আব্বাসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি তারা। সেবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান মেয়র আব্বাস। আর দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন আব্বাস আলী। কাটাখালীতে রীতিমতো ‘আব্বাসীয়’ যুগের সূচনা করেন। পুরো কাটাখালীর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। পৌরভবন থেকে হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, বালুমহাল সবখানেই চলত আব্বাসের শাসন। সে সময় এলাকায় যেকোনো বিষয়ে আব্বাসের কথাই ছিল শেষ কথা। নামে-বেনামে করেছেন ঠিকাদারি। টাকাও কামিয়েছিলেন দুই হাতে। গড়ে তুলেছিলেন একক আধিপত্য। মেতেছিলেন বিত্তবৈভবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে মেয়র আব্বাসের বিতর্কিত মন্তব্যের দুটি অডিও ক্লিপ ২০২১ সালের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে যান। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করে। কেন্দ্রের কাছে দলীয় পদ থেকেও তাকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগ।

টানা এক বছর পর গত ২৯ নভেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েই শোডাউন করেন আব্বাস। বিপুলসংখ্যক অনুসারী তাকে কারাফটকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। এরপর আব্বাস নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সোজা যান সিঅ্যান্ডবি মোড়ে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারপর থেকেই নিজের দল গোছাতে আবারও সক্রিয় আব্বাস আলী। তার কর্মকা- দেখে এলাকাবাসী বলছে, হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েই মনে হয় তিনি আবারও রাজনীতির আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমেছেন।

গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় কাটাখালী থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন করেন আব্বাস। সর্বশেষ গত সোমবার জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সহধর্মিণী জাহানারা জামানের মৃত্যুবার্ষিকীতেও কাটাখালীতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মিলাদ মাহফিল করেছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা নেতাদের প্রতি নমনীয় হয়েছে আওয়ামী লীগ। যারা অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইছেন, তাদের কেন্দ্র থেকে ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্বাস আলীও দলের পদ ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছেন।

এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ বলছে, কাটাখালী একসময় বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা ছিল। কিন্তু আব্বাস মেয়র হওয়ার পর ২০১৫ সাল থেকে সেখানে বিএনপি-জামায়াত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আব্বাসের অনুপস্থিতিতে গত এক বছরে বিএনপি-জামায়াত আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কাটাখালী পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র আব্বাস আলী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ আমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। কিন্তু বহিষ্কার করেনি। বহিষ্কারের কোনো চিঠি কেন্দ্র থেকেও পাইনি। যেহেতু আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি, তাই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদনও করিনি। এখন হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছি। দল যেভাবে কাজ করতে বলবে, সেভাবেই কাজ করব। আর মেয়র পদ ফিরে পেতে আইনি লড়াই চলছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত