রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পাঠক টার্গেট করে কবিতা লিখি না

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৩০ এএম

প্রথম দশকের অন্যতম কবি ভাটি অঞ্চলের সন্তান মামুন খান। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জল ও জলপাই’ ২০০৮ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কবিতায় রেখেছেন নিজের স্বাক্ষর। এরপর ২০১১ সালে ‘বাইরে দুপুর ভিতরে ভৈরবী’, ২০২০ সালে ‘জলসায়ররে পলি’ এই কবির পাঠকপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ। মা-মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধ তার কবিতার অন্যতম উপপাদ্য। এবারের বইমেলায় কবির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘বরুণ তলায় বাওয়ানী’ চৈতন্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন ২০১৭ সালে জলসিঁড়ি সম্মাননা ও ২০২১ মুক্তাগাছা সাহিত্য পুরস্কার। গতকাল বইমেলায় কবির সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। এবারের মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কবি মামুন খান বলেন, এবারের মেলা অনেক সুন্দর ও পরিপাটি, সাজসজ্জা খুব ভালো, বিস্তৃত পরিসর। যারা ঘুরছে তারা খুবই স্বচ্ছন্দে মেলায় ঘুরতে পারছে। এবার একটি বিষয় দেখছি যারা মেলায় এসেছে তারা বই কিনছে। এর আগে যেটা দেখতাম, মেলায় মানুষ শুধু ঘুরতে আসত। এবার দেখছি ঘোরাঘুরির পাশাপাশি বইও কিনছে।

মেলায় কোন শ্রেণির পাঠক বেশি বই কিনছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সবশ্রেণির পাঠকই বই কিনছে। মূলত তরুণরা বিভিন্ন মোটিভেশনাল বই কিনছে। প্রবন্ধ উপন্যাস কবিতার বইয়ের চেয়েও মোটিভেশনাল বই বেশি কিনছে তারা।

কবির নতুন কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এবারের মেলায় আমার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘বরুণ তলায় বাওয়ানী’ চৈতন্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টির মতো কবিতা রয়েছে। বইয়ে নানা ধরনের কবিতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে মেলবন্ধন তা কবিতার পরতে পরতে বিদ্যমান। আমার ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা ভাটি অঞ্চলে। ফলে এই কবিতাগুলোতে সেখানকার একটা প্রভাব রয়েছে। দেখুন আমার বইয়ের যে নাম ‘বরুণ তলায় বাওয়ানী’। বরুণ গাছ, যে গাছটি কিন্তু ভাটি অঞ্চলে হয়ে থাকে আর বাওনি অর্থ ঘুরনি বাতাস সেটাও আমাদের ভাটি অঞ্চলে হয় যার জন্য।

কোন বয়সী পাঠকের জন্য বই লিখেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কোনো পাঠককে টার্গেট করে আমি কবিতা লিখি না। কোনো কবিই কোনো পাঠককে টার্গেট করে কবিতা লেখেন না। সাধারণত কবিরা ওনার ভেতরের আবেগকে কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেন। একজন পাঠক তার কবিতা পড়বে কি পড়বে না সেটা বিবেচনায় নিয়ে কবিরা কবিতা লেখেন না।

মানুষের কবিতা বিমুখতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানুষ আগে থেকেই কবিতা খুবই কম পড়ে। এখন প্রযুক্তি এসেছে দেখেই যে মানুষ কবিতা পড়ছে না এমন বিষয় না। দেখুন রবীন্দ্রনাথের যে কবিতাগুলো পাঠ্যবইয়ে আছে সেগুলো ছাড়া অন্য কবিতাগুলো কিন্তু মানুষ খুবই কম পড়ছে, তার উপন্যাস ছোটগল্প এবং প্রবন্ধের তুলনায়। তারপর দেখুন জীবনানন্দ দাশ তিনি অনেক বড় মাপের কবি তার কবিতা কজন পড়ছে। দু-একটি প্রেমের কবিতা ছাড়া তার কবিতা খুব একটা মানুষ পড়ে না।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত