বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‌‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’ এনবিআরেরও

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৭ পিএম

বৈশ্বিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এ অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলে জানাচ্ছে এনবিআরও।

এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের কৃষিজাত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে উৎসে কর কর্তনের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করেছে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে কয়েকটি আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় আইসিএমএবি এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সকালে আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইএবি, বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনাল ফোরাম, ইরনেস্ট অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

বিকেলে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহের সংগঠনের নেতারা প্রাক বাজেট আলোচনায় বসেন। দুটি বৈঠকেই এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল ইকোনমির আয়ের ওপর কর আরোপ প্রসঙ্গে আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ করা উচিত। আয়কর আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে স্থায়ী অফিস না থাকলে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে কর ধার্যের আওতায় আনার বিধান নেই। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে স্থায়ী স্থাপনা না রেখে বিদেশি কোম্পানিগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসা করে যাচ্ছে। ভ্যাট আইনের মতো আয়কর আইনে স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের বিধান করা হলে বিদেশি কোম্পানি স্থানীয় এজেন্ট রাখবে ও তা তাদের বাংলাদেশের স্থানীয় স্থাপনা বলে বিবেচিত হবে। এতে তারা বাংলাদেশে অর্জিত আয়ের ওপর কর প্রদানে বাধ্য থাকবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাল, ডাল, আটা, ময়দাসহ সব ধরনের কৃষিজাত পণ্যে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

এ সময় পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বলেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার পর আয়কর আইনের শর্ত শিথিল বা সুবিধা দিলে তা করদাতাদের খুব বেশি কাজে আসে না। এ ছাড়া বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির মূলধনের ওপর ঋণপ্রাপ্তির সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব জানানো হয়। রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আইন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথাও বলেন নেতারা।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের কাজ চলছে। তাড়াহুড়ো করে কোনো নীতি জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে বরং ধীরে ধীরে সহনীয় পরিবর্তন আনায় বিশ্বাস করে এনবিআর।

বিকেলের বৈঠকে নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মতো এনবিআরেরও পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকা থেকে উদ্ধারের জন্য আমার কাছে যখন আসেন, আমারও তো দেয়ালে পিঠ ঠেকা। আমাকে রাজস্ব কালেক্ট করতে হবে কত তা বলা হয়েছে। আমার দেশের ডেভেলপমেন্টের জন্য, আমাদের গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমার টাকা দরকার, ফাইনান্স আমাকে সেই রাজস্ব সংগ্রহ করতে বলেছে। আমারও তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে আছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান আরো বলেন, আপনাদের এ সমস্যা শুধুমাত্র কাস্টমস, ভ্যাটের জন্য না। সমস্যাটা অন্যভাবে তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য, আমাদের ডলার ক্রাইসিস। যখনই সেগুলোকে অ্যাড্রেস করতে পারেন না, মুক্তির যখন আর কোনো পথ নাই তখনই এ টেবিলে (এনবিআরে) চলে আসেন। অন্যগুলো যখন ম্যানেজেবল না, তখন এনবিআর আছে কাছে, এনবিআরের কাছে একটু আসি। আপনাদের ক্রাইসিস আমরা ফিল করি, আপনাদের দেয়ালে পিঠ অবশ্যই ঠেকে গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশন, অটো ব্রিকস প্রতিষ্ঠান সমূহে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার দাবি করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত