সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পিল-কনডম ‘হারাম’, ব্যান করল তালেবান

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৩৩ পিএম

পিল ও কনডমকে ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে জন্মনিরোধক পণ্য বিক্রিতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। চলতি মাসে শরিয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দেশটির দুটি শহরে জন্মনিরোধক পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তালেবানের দাবি, জন্মনিরোধকের ব্যবহার মুসলিম জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করার ‘পশ্চিমা ষড়যন্ত্র’। আজ শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তালেবান যোদ্ধারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফার্মেসি মালিকদের বলা হচ্ছে জন্মনিরোধক পণ্য দোকান থেকে সরিয়ে ফেলতে। তবে তালেবানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি।

কাবুলের এক ফার্মেসি মালিক বলেন, ‘তালেবান যোদ্ধারা বন্দুক নিয়ে আমার দোকানে দুইবার এসেছিল। তারা জন্মনিরোধক পণ্য না রাখতে বলেছে। এছাড়া তারা কাবুলের প্রতিটি ফার্মেসিতে যাচ্ছে। আমরা পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি’।

কাবুল এবং মাজার-ই-শরীফের দোকানিরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাবুলের আরেক দোকানের মালিক বলেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে জন্মনিরোধক ট্যাবলেট এবং ইনজেকশনের মতো পণ্য ফার্মেসিতে রাখার অনুমতি নেই। আমরা বিদ্যমান স্টক থেকে বিক্রি করতে খুব ভয় পাচ্ছি’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ স্বাস্থ্যকর্মী জানান, তালেবান যোদ্ধারা তাকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছে। একজন তালেবান তাকে বাইরে যেতে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পশ্চিমা ধারণা প্রচারে নিষেধ করেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি ১৪ জন আফগান নারীর মধ্যে একজন গর্ভাবস্থাসম্পর্কিত কারণে মারা যায়। সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি আফগানিস্তান।

যুক্তরাজ্যে আফগান বংশোদ্ভূত সমাজকর্মী শবনম নাসিমি বলেন, ‘তালেবান শুধু নারীদের কাজ ও পড়াশোনার অধিকারের ওপর নয়, এখন তাদের শরীরের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছে’।

২০২১ সালের আগস্টে কাবুলের ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর থেকে দেশটিতে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা বন্ধ রয়েছে। এখন সেখানে তরুণীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। নেই চাকরি করার সুযোগ। তাদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার ওপর রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। এর ধারাবাহিকতায় জন্মনিরোধক পণ্য বিক্রি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত