বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় মুখের যত্ন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৪ পিএম

হৃদরোগ তৈরির পেছনে নানা যৌক্তিক কারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মাড়ি রোগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে, অনেকে এমনটা বিশ্বাস করেন না, কারণ মুখের মধ্যকার সংক্রামক হার্টে যাবে কীভাবে।  গবেষণা বলছে, মাড়ি বা দাঁতের গোড়ার সংক্রমণ সহজেই রক্তবাহিকার সঙ্গে মিশে শরীরের যেকোনো অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আর হার্ট যেহেতু রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে তাই এর ঝুঁকিটাও বেশি।

করোনারি আর্টারি ডিজিজ : মাড়ি রোগ থেকে জীবাণু ও তাদের তৈরি ক্ষতিকর পদার্থ রক্তবাহিকার মধ্যে চালিত হয়। ফলে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপায়ী, দৈহিক পরিশ্রম কম হয় তাদের রক্তনালির মধ্যকার স্থানটি চিকন করতে শুরু করে, যাকে অ্যাথেরোসেক্লরোসিস বলা হয়, ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত বা অক্সিজেন পায় না, তখন নানা জটিলতা তৈরি হয় আর চিকিৎসা না পেলে হার্ট অ্যাটাক। সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও মাড়ি রোগ থাকলে অ্যানজাইনা ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দুই থেকে তিন ভাগ বেশি দেখা যায়।

হার্টের ভালভে সংক্রমণ : মাড়ির প্রদাহ থেকে ব্যাকটেরিয়া হার্টের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভালভগুলোকে আক্রান্ত করতে পারে। গবেষণা বলে, মাড়ির ব্যাকটেরিয়াকে হার্টের ভালেভও পাওয়া গিয়েছে। যাদের কৃত্রিম ভালভ সংযোজিত বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের মুখের যত্নে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই। আবার অন্যদিকে হার্টের ব্যথা নিচের চোয়ালে অনুভব হওয়ার অনেক ইতিহাস এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। হার্টে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে সেখান থেকে ব্যথা চোয়ালে ও দাঁতে অনুভব হতে পারে, বিশেষ করে মেয়েদের হার্টের ব্যথা বাম দিকের নিচের দাঁতে ও চোয়ালে অনুভূত হতে দেখা যায়।

 সকালে নাশতা ও রাতে খাবার পর দুমিনিট ধরে দাঁতের পাঁচটি পৃষ্ঠ নিয়ম মেনে পরিষ্কার করতে হবে। দু-দাঁতের মধ্যে খাবার জমলে সাধারণ টুথব্রাশে এগুলো পরিষ্কার হয় না, টুথপিক বা কাঠির পরিবর্তে বাজারজাত ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।  চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার।  ব্রাশের পর আঙুল দিয়ে আলতো করে মাড়ি মাসাজ ও জিহ্বা পরিষ্কার।  চিনির তৈরি খাবারকে কমাতে হবে, চিনিকে সাদা বিষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন চকোলেট, আইসক্রিম, বিস্কুট, কমলপানীয়, আলুর চিপস, কেক এসবই মুখের ও শরীরের জন্য অস্বাস্থ্যকর। এ ধরনের খাবারকে কমিয়ে মৌসুমি ফরমালিনমুক্ত তাজা ফল, শাকসবজি, দুধ, টক দই, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, ছোট মাছে উৎসাহিত হতে হবে। পর্যাপ্ত পুষ্টি মুখের স্বাস্থ্যকে উন্নত রাখে।  শরীরের অন্যান্য রোগ যেমন ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।  প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটতে হবে।  ছয় মাস অন্তর বা মুখের মধ্যে যেকোনো অস্বাভাবিকতায় অনুমোদিত বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 ধূমপান ও পান-জর্দামুক্ত থাকতে হবে।  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত