বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিনিয়োগ করতে চায় ব্রিটিশরা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২৪ এএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেছেন, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিমান চলাচল, শিক্ষা ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

গতকাল বুধবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ জলবায়ু সংস্কার : বিনিয়োগ জলবায়ু তহবিল (বিআইসিএফ) প্রোগ্রামের শেষ-মেয়াদি মূল্যায়ন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এখন আমাদের একটি সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংলাপ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিতি ছিলেন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান, এফসিডিও বাংলাদেশের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ডানকান ওভারফিল্ড, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হোল্টম্যান, ফিকির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) সিইও ফেরদাউস আরা বেগম।

ডিকসন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে মূলধন বাড়াবে। কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। তারা এদেশে আগে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছিল তা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইএসডি ও জলবায়ু-বান্ধব বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী তারা।

তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশে বাংলাদেশে রপ্তানি বিনিয়োগে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে এদেশে বিনিয়োগের সুদহারও বাড়ানো হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী আমরা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়লেই দেশের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হবে।

বিমানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিমান খাত এখন যেভাবে আছে, তা খুব সম্ভাবনাময় খাত। এয়ারবাস ইউকে এখানে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশের এ পরিবেশে বিশে^র নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করতে পারে।

এছাড়া আর্থিক খাতেও যুক্তরাজ্যের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বিমা খাতে বিনিয়োগ করতে চায় তারা। বাংলাদেশ এমন একটি পরিবেশ যেখানে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এখানে বিদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা বাড়াতে সহায়তা করবে। ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা এখানে আগে থেকেই ব্যবসা করছেন তারা বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ডকে কর দেওয়ায় করপোরেট খাতে শীর্ষে আছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা), যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, নাথানের হেড অফ গ্লোবাল প্র্যাকটিস বুদ্ধিকা সমরাসিংহে। মূল প্রবন্ধে সমরাসিংহে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি তুলে ধরে কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি এবং করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য বহুমুখীকরণের জন্য শুধ আরএমজি সেক্টর না সব সেক্টরকে  সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন আলোচকরা।

লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, শুধু আরএমজি সেক্টর না সব সেক্টরে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার এমব সেক্টরকে প্রমোট করতে সহায়তা করছে। একইসঙ্গে ব্যবসাকে সহজ করা হচ্ছে। এ জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে এক জায়গায় পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত