মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাকিব-তামিম দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১৬ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুই অধিনায়ক, এক সময়ের দুই হরিহর আত্মা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের ভেতর সম্পর্কে যে চিড় ধরেছে সেটা বোঝা যাচ্ছিল নানান আভাস ইঙ্গিতেই। করোনাকালীন তামিম ইকবাল বনে গিয়েছিলেন টক শো’র সঞ্চালক। তার আমন্ত্রণে রোহিত শর্মা, কেন উইলিয়ামসনসহ অনেকেই যোগ দিলেও সাকিবকে পাননি। আবার কিছুদিন আগে, সাংবাদিকদের আয়োজনে একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দুজনেই ছিলেন আমন্ত্রিত, সেখানে তামিম যেখানে বসেছিলেন তার থেকে বেশ কয়েক সারি পেছনে বসেছিলেন সাকিব। তামিম অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরই সাকিব গিয়ে বসেন অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে। ধোঁয়া দেখা দিলে আগুন থাকবেই, সেই আগুনই উসকে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। ক্রিকেট বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ক্রিকেবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাকিব-তামিমের দ্বন্দ্ব নিরসনে নিজে উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

ওয়ানডে অধিনায়কের সঙ্গে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে নাজমুলের বক্তব্য, ‘আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমটা খুব স্বাস্থ্যকর অবস্থায় নেই। তাদের (সাকিব ও তামিম) এই দ্বন্দ্বটা নিরসনের কোনো উদ্যোগ আমি নিইনি তা নয়, দুজনের সঙ্গেই কথা বলে যা বুঝেছি যে এটা সমাধান করা সহজ নয়। তাদের দুজনকেই একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা হচ্ছে আমরা জানতে চাই না তোমাদের ভেতর কী হচ্ছে বা হয়েছে। আমরা শুধু চাই যে সিরিজ চলাকালীন কিংবা ম্যাচের মধ্যে যেন তাদের দুজনের এই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সামনে না আসে। দুজনেই আশ^স্ত করেছে যে ম্যাচের মধ্যে এটা প্রভাব ফেলবে না।’

দুই মহারথীর পেছনে অনুগামীরাও আছেন। তামিম যেমন ওয়ানডে দলে তাইজুল ইসলামকে নিতে ইচ্ছুক ছিলেন যার প্রতিফলন ঘটেছে দল নির্বাচনে। ইয়াসির রাব্বিও একই শহরের অগ্রজ তামিমের অনুসারী বলেই পরিচিত। অন্যদিকে মোসাদ্দেক হোসেন পরিচিত সাকিবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে। রুবেল হোসেনও একই তালিকায় ছিলেন, যদিও এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এই পেসার অনেকটাই দূরে। বোর্ড সভাপতি মনে করেন, দলের ভেতরের এই বিভাজন বাংলাদেশ দলের সাফল্যের পথে বড় অন্তরায়। ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্রুপিং, এটাই বাস্তবতা। আমার আর কোনো কিছু নিয়ে সমস্যা নেই। আমি এই দলাদলিটাকেই ভয় পাই যেটা সম্পর্কে আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এমনকি বিশ্বকাপেও...তাদের সঙ্গে একই হোটেলে না থেকেও আমি যেসব জানতে পেরেছি সেসব রীতিমতো অবিশ্বাস্য। আমরা যদি সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই তাহলে আমাদের এই দলাদলি বন্ধ করতে হবে, ক্রিকেট দলে এসবের কোনো সুযোগ নেই’ ক্রিকবাজকে বলেছেন নাজমুল।

বোর্ড সভাপতি ভিন্ন এক প্রসঙ্গে জানান, কোনো সিনিয়র ক্রিকেটার পারফর্ম করতে না পারলে কোচ নির্দ্বিধায় দল থেকে বাদ দিয়ে দেবেন! ‘এটা খুবই কঠিন হবে (সিনিয়রদের সঙ্গে হাথুরুর সুসম্পর্ক)। এমনকি ডমিঙ্গোর সঙ্গেও সিনিয়রদের সমস্যা হয়েছিল...।

হাথুরুসিংহের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ আমি জানি, যদি কোনো সিনিয়র ক্রিকেটার পারফর্ম না করে, হাথুরুসিংহে তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত