বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফুটবল ভালোবাসা ফেরাল আর্জেন্টিনার দূতাবাস

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:২০ এএম

৪৫ বছর পর আবারও বাংলাদেশে দূতাবাস চালুর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে সফররত আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তিয়াগো আন্দ্রেস ক্যাফিয়েরোকে সঙ্গে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রাজধানীর বনানীতে দূতাবাস উদ্বোধন করেন।

দূতাবাস উদ্বোধনকালে শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু হওয়া একটি আনন্দের মুহূর্ত। এটা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। এটাকে আমি শুধু কূটনৈতিক বিষয় বলব না, এটা আবেগঘন একটি মুহূর্ত আমার কাছে।’

এ দূতাবাস উদ্বোধনের লক্ষ্যেই গতকাল সকালে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাফিয়েরো। তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিকেলে ক্যাফিয়েরো দূতাবাস উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও এমওইউ সই করেন তারা। সেগুলো হচ্ছেÑ দুই দেশের ফুটবল সহযোগিতা, ভিসা ওয়েভার ও পররাষ্ট্র একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা। কূটনৈতিক এবং অফিশিয়াল পাসপোর্টে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে অফিশিয়াল পাসপোর্ট ও কূটনীতিকদের আর্জেন্টিনা যেতে ভিসা লাগবে না।

বৈঠক সম্পর্কে এবং দূতাবাস চালুর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ৪৫ বছর পর দেশটি এখানে আবারও দূতাবাস চালু করেছে। তারা এখানে দূতাবাস খুলেছিল স্বাধীনতার পরে। এরপর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। মন্ত্রী মনে করেন, এবার দূতাবাস চালুর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বহুপক্ষীয় বিষয়ে সম্পর্ক উন্নয়ন হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের যে, আর্জেন্টিনার দূতাবাস হয়েছে এখানে। এখন আমাদেরও দায়-দায়িত্ব হলো আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশ দূতাবাস খোলা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে এবং তারা এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। লাতিন আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মারকেশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আর্জেন্টিনা এবং সেই জোটে ঢোকার জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আবেদন করেছে বলে জানান ড. মোমেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সালে আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ঢাকায় দূতাবাস খোলা হয়। এরপর ১৯৭৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের শেষের দিকে আর্জেন্টিনা ঢাকায় দূতাবাস খোলার ঘোষণা দেয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফুটবল বিশ্বকাপ এই দূতাবাস খোলাকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার ভক্ত এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে উন্মাদনার বিষয়টি কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের বিশেষ নজর কাড়ে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও এটি আলোচনায় এসেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত