রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছেঁড়া সম্পর্কে সুনাকের সেলাই

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৮ পিএম

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বেক্সিট পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আইন চুক্তি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তার মতে, এ চুক্তি ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে ২০১৬ সালে গণভোটের পর নতুন এই চুক্তিকে যুক্তরাজ্য-ইইউ ছেঁড়া সম্পর্কে নতুন সেলাই বলা যেতে পারে। গত সোমবার পশ্চিম লন্ডনের একটি হোটেলে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিনের সঙ্গে বৈঠক করেন সুনাক। বৈঠক শেষে উইন্ডসরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বলেন সুনাক এবং ফন ডার লিন। সেখানে সুনাক জানান, উভয় পক্ষ ব্রিটিশ প্রদেশের (নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড) বাণিজ্য নিয়ম সহজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেই সঙ্গে তারা কী নিয়ম অনুসরণ করবে তা ঠিক করার আরও বেশি ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে দেওয়া হয়েছে।  

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি। এটা আমাদের সম্পর্কের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা।’  

আয়ারল্যান্ড আলাদা একটি রাষ্ট্র হলেও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এখনো যুক্তরাজ্যের অংশ। আয়ারল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে নিবিড় বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই অঞ্চলের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই (ওপেন বর্ডার)। যুক্তরাজ্য ইইউর সদস্য থাকা অবস্থায় দুই আয়ারল্যান্ডের ইইউর একক বাণিজ্যনীতি নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর অর্থাৎ আয়ারল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক কী হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ে ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী সুনাকের জন্য বড় অর্জন হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। মাত্র চার মাস আগে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় আসা সুনাক ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপসের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে আগ্রহী বলে মনে করছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। একই সঙ্গে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ে ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তি সুনাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তার দল কনজারভেটিভ পার্টিই তীব্র ব্রেক্সিটপন্থি। এখন ইইউর সঙ্গে সমঝোতার সম্পর্ক তার দলের এমপিদের পছন্দ নাও হতে পারে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত