বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘সতীর্থদের ভালো বন্ধু হওয়ার দরকার নেই’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০১:৩০ এএম

ক্রিকেটের প্রচলিত বিশ্বাসকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছেন চন্দিকা হাথুরুসিংহে। দেশের মাটিতে উইকেটের সুবিধা নেওয়াটা তার কাছে গেরিলা যুদ্ধের মতো। এই শ্রীলঙ্কান যখন বেড়ে উঠছেন তখন তার দেশে চলছিল গৃহযুদ্ধ। সেনাবাহিনী কর্মকর্তা বাবাকে কাছ থেকে দেখেছেন, দেখেছেন যুদ্ধের ভয়াবহতা। সেখান থেকেই বুঝে গেছেন, জয়-পরাজয়ই আসল আর ইতিহাস বিজয়ীকেই মনে রাখে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমে বিভাজন, সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের বাক্যালাপ বন্ধ এসব ইস্যুতে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে হাথুরুসিংহের সোজাসাপটা উত্তর, ‘সতীর্থদের ভালো বন্ধু হওয়ার দরকার নেই।’

বোমাটা ফাটিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। সাকিব আর তামিমের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ড্রেসিং রুমে বিভাজন এসব নিয়ে বলার জন্য সময়টা সঠিক কি না এমন প্রশ্নে হাথুরুসিংহের পাল্টা প্রশ্ন, ‘সিরিজ শুরুর আগে এমন প্রশ্ন করার জন্য এটাও কি সঠিক সময়? আমি কি এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানুষ?’ শ্রীলঙ্কান কোচ স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন, কারও ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান দেওয়া তার কাজের অংশ নয়। একই সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি এমনও ড্রেসিংরুমের অংশ ছিলাম, যেখানে কারও সঙ্গে কারও বনিবনা হতো না। তারপরও তারা যখন মাঠে নামত, একটা দল হিসেবেই খেলত। কেউ যখন জাতীয় দলের হয়ে খেলবে তখন এটাই প্রত্যাশিত। জাতীয় দলের সবাইকে যে পরস্পরের ভালো বন্ধু হতে হবে, একসঙ্গে নৈশভোজে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত এইসব মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব না ফেলছে, আমি কোনো সমস্যাই দেখছি না’ ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন হাথুরুসিংহে।

ড্রেসিংরুমে বিভাজন দেখেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছি মাত্র দিন সাতেক হয়। আমি এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ওরা (বাংলাদেশ ক্রিকেট দল) সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে আর আমার কাজ হচ্ছে ওরা কী করছে সেটা পর্যবেক্ষণ করা। তারা নিশ্চয়ই কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় সফল হচ্ছে। যদি এই প্রক্রিয়াতেই সাফল্য আসে, তাহলে আমি কিছু করব না। খুব সম্ভবত আমি প্রথম দুটো ম্যাচ দেখব, এরপর আমি আমার মতো সব করব।’

‘সিনিয়র ক্রিকেটাররা ভালো না করলে হাথুরুসিংহে তাদের দলে রাখবে না’, সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন নাজমুল। কোচকে গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে আলাপচারিতায় দেখা গেছে লিটন দাশ, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, সচেতন ভাবেই দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পর সম্ভাব্য যারা নেতৃস্থানীয় হয়ে উঠতে পারেন তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন, ‘আমাদের এখন থেকেই পরবর্তী প্রজন্মের ভেতর নেতৃত্বগুণ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শীর্ষ চার সিনিয়র ক্রিকেটার এরই মধ্যে ১৫-১৭ বছর ধরে ক্রিকেট খেলে ফেলেছে। তারা তো আরও ১০ বছর খেলবে না। আমাদের পরের প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আমি কিন্তু তাদের বেছে নিইনি। ওরাই কিন্তু ওদের আচরণ দিয়ে, ওদের পারফরম্যান্স দিয়ে জায়গাটা তৈরি করে নিয়েছে। তারাই নিজেদের এই জায়গার জন্য যোগ্য করে তুলেছে। ড্রেসিংরুমে আচরণে, মাঠের পারফরম্যান্সে তারাই পরবর্তী পর্বের নেতৃত্বের দাবিদার।’

সাকিব আল হাসান অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন সোমবার। সাকিবের পরে যোগ দেওয়াটাও সমস্যা হিসেবে দেখছেন না হাথুরুসিংহে, ‘পৃথিবী জুড়ে এখন এভাবেই খেলা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ তো মাত্র দুদিন আগে এলো, তাদেরও তো খেলতে হবে। সাকিবের পারিবারিক সমস্যা ছিল, দীর্ঘ একটা বিমানযাত্রার পর সে দলে যোগ দিয়েছে। আমাদের বলেছে যে সে ঠিক আছে। সে অভিজ্ঞ, সে জানে তার শরীরের কী অবস্থা। আমাকে তার বিচারবোধের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’

ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, বিভাজন, দলের প্রতি সাকিবের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন... এমন সব বিষয়ে হাথুরুসিংহে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিলেন, এসব খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে তার মোটেও আগ্রহ নেই। পেশাদার কোচ হিসেবে সবকিছুই তিনি দেখেন নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি ভালো করেই জানেন, দল যদি শেষ পর্যন্ত ভালো না করে তাহলে সাকিব-তামিম মানিকজোড় হলে বা সাকিব প্রথম দিন থেকেই দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও কোনো লাভ হবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত