রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফের অশান্ত শ্রীলঙ্কা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ১০:৫০ পিএম

দেউলিয়া শ্রীলঙ্কা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মানতে গিয়ে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে মাত্রাতিরিক্ত করারোপ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে। এতে জনগণের তোপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠতে থাকায় আবার আন্দোলনের শঙ্কায় তাই বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিক্রমাসিংহে গত মঙ্গলবার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ‘প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা’ সচল রাখতে সরকারি কর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক বলে আদেশ দিয়েছিলেন। ধর্মঘটকে বেআইনি এবং আদেশ অমান্যকারী সরকারি কর্মীরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গতকাল বুধবার ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিকেরা। 

কর বৃদ্ধি ও সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার প্রতিবাদে তারা এ ধর্মঘট পালন করেন। শ্রীলঙ্কার সরকারি হাসপাতালের কর্মীরাসহ ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রায় ৪০টি ট্রেড ইউনিয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। ধর্মঘটের ফলে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতাল, ব্যাংক ও বন্দরের কার্যক্রম। রাজধানী কলম্বোয় অবস্থিত শ্রীলঙ্কার জাতীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালে কেবল জরুরি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর কলম্বোর বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। বুধবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিদ্যুৎ শ্রমিক ও ব্যাংক টেলাররাও। কলম্বো বন্দরের শ্রমিকরাও দুপুরের খাবারের সময় বিক্ষোভ করেছেন।

দেশটির ইউনিয়ন নেতারা বলেছেন, শনিবার বিক্রমাসিংহে তাদের বলেছিলেন, তিনি আয়কর কমাতে পারবেন না। কারণ বেলআউট প্যাকেজ পাওয়ার জন্য আইএমএফ এই শর্ত বেঁধে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার সরকারি মেডিকেল কর্মকর্তাদের সংগঠনের নেতা হরিথা আলুথগে কলম্বোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘এক দিনের টোকেন প্রতিবাদ কর্র্তৃপক্ষের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

স্বাধীনতার সাত দশকের বেশি সময়ের মধ্যে নজিরবিহীন এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা কয়েক মাসের বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে গত বছরের জুলাইয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন ঘটে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক জ¦ালানি, খাবার ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আইএমএফের কাছ থেকে বেলআউট পাওয়ার প্রত্যাশা করছে দেশটি। এই বেলআউটের আশায় আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কার সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত