বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পেশকারের যোগসাজশে আসামি খালাস!

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩, ০৬:৪৫ এএম

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক পেশকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ কাটাছেঁড়া করে দুই আসামিকে খালাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। গতকাল বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে বাদী মো. মফিজ উদ্দিন (৩২) এই অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত পেশকারের নাম রাকিব চৌধুরী। তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর-১৮-এ কর্মরত।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফেনীর দাগনভূঞা থানার নয়নপুর গ্রামের মৃত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে মো. মফিজ উদ্দিন মোহাম্মদপুর থানায় জিয়া উদ্দিন শিমুল ও আবু তাহের নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, জিয়া উদ্দিন শিমুল ও আবু তাহের জোর করে তাকে আটকে ফাঁকা চেক ও  নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। জিডিটির তদন্তের পর মোহাম্মদপুর থানার এসআই দেবাশীষ মোদক জিয়া উদ্দিন শিমুল ও আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর জিডিটি মোহাম্মদপুর থানার নন-এফআইআর মামলা হিসেবে বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১৮ নম্বর আদালতে আসে। সেখানে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হওয়ার পর গত ১৮ অক্টোবর বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। কিন্তু সেদিন আসামিদের আইনজীবী অসুস্থ থাকায় বিচারক মো. জসিম সময় আবেদন মঞ্জুর করে গত ১৭ জানুয়ারি বাদীকে জেরা ও অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেন। ওইদিন বাদী আদালতে না আসতে পারায় বিচারক ১ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানির দিন ঠিক করেন। সে অনুযায়ী গতকাল বুধবার বাদী আদালতে গিয়ে দেখতে পান, মামলাটি কজলিস্টে থাকলেও নথি নেই। পরে মামলার আইনজীবী আজাদ রহমান বিচারককে বিষয়টি জানালে বিচারকের নির্দেশের পর কর্মচারীরা নথি বের করেন। এরপর বিচারক মো. জসিম নথি দেখে জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় হয়ে গেছে। রায়ে আসামিরা খালাস পেয়েছেন। এরপর আইনজীবী নথিতে দেখতে পান, গত ১৭ জানুয়ারি তারিখের আদেশে ১ মার্চ লেখার স্থানে কাটাছেঁড়া করে ১২ ফেব্রুয়ারি লেখা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বাদীপক্ষের অজ্ঞাতে আত্মপক্ষ শুনানি হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানির পর ২৬ ফেব্রুয়ারি আসামিদের খালাসের রায় ঘোষিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাদী মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ধারণা আদালতের পেশকার রাকিব চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারিখ কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করে আসামিদের খালাস করিয়ে দিয়েছেন।’

আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, ‘বাদী সিএমএম মহোদয়ের কাছে আজ (গতকাল) লিখিত অভিযোগ করেছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পেশকার রাকিব চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমার আদালতের ওমেদার এ কাজ করতে পারেন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত