বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রধানমন্ত্রীর সচিব ও এসপি পরিচয়ে প্রতারণা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩, ০৬:৩৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কুমিল্লা জেলার এসপি পরিচয়ে কনস্টেবল নিয়োগের নামে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ। তাদের ঢাকা ও মাদারিপুর জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেশ বড়ুয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকরা হলেন মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় মোল্লা বাড়ির মেরাজুল ইসলাম প্রকাশ ওরফে লায়ন মেরাজ(৪৬), ও একই জেলার লুন্দি এলাকার জামান খন্দকার (৪৩) ও রায়েরকান্দি এলাকার রিপন ফকির (৩৭)।

এর মধ্যে মেরাজুল ইসলাম ডিএমপি কদমতলি থানার প্রতারণা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং জামান খন্দকার ডিএমপির বংশাল থানার চাঁদাবাজি মামলার আসামি।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান জানান, বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে মরিময় বেগম এবং তার স্বামী শরিফুল ইসলাম তাদের নাতি ফাহিমকে উক্ত পদের জন্য আবেদন করতে বলেন। ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র ফাহিম উক্ত পদের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন।

তিনি জানান, এরই মধ্যে শরিফুল তার অফিসের সহকর্মী আনোয়ারের মাধ্যমে জানতে পারেন, লায়ন মেরাজ নামে প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রেস সচিব আছেন। যিনি তদবীর করলে শরীফুলের নাতির পুলিশের চাকুরী হয়ে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে শরিফ তার সহকর্মী আনোয়ারের কাছ থেকে লায়ন মেরাজের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের চাকুরীর বিষয়ে কথা বলেন এবং মেরাজের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে শরীফুল তার নাতির পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র পাঠান। তাছাড়া চাকরী পেতে হলে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হবে বলে লায়ন মেরাজ জানালে শরীফুল রাজি হন এবং টাকা পাঠান।

তিনি আরও বলেন, প্রতারকদের কাছ হতে আত্মসাৎকৃত টাকা এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ও সীম উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে হ্যালো পার্টির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসারদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছে। আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল পর্যালোচনায়ও এই বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। আসামিরা স্থানীয়ভাবে হ্যালো টিম নামে পরিচিত বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত