সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হলে নবীনরা ক্ষুব্ধ জ্যেষ্ঠরা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৭:০০ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের হলে তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন গণরুমে থাকলেও তাদের বাদ দিয়ে নবনির্মিত দুটি হলে সদ্য ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের উঠিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অন্য শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন নেতিবাচক কথার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভও প্রকাশ করছেন তারা।

শেকৃবিতে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রীদের জন্য শেখ সায়েরা খাতুন হল এবং ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রদের জন্য শেখ লুৎফর রহমান হলের কাজ শেষ হয় বহু আগে। তবে লোকবল সংকটের অজুহাতে হল দুটি চালু করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে গত ডিসেম্বরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর সংশ্লিষ্ট হল দুটির জন্য কোনো লোকবল নিয়োগ না হলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ওরিয়েন্টেশনের দিনই নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন হল দুটিতে কক্ষ বরাদ্দ ও সিঙ্গেল সিট দেয় প্রশাসন। জ্যেষ্ঠদের ডাবল বেডে রেখে নবীনদের সিঙ্গেল সিট দেওয়ার এমন ‘কাণ্ডে’ সমালোচনার সৃষ্টি হয়; যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থীকে।

শেখ লুৎফর রহমান হলে গিয়ে দেখা যায়, ১০তলা হলটির ৬তলা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা থাকছেন। প্রতিটি কক্ষে ৪ জন করে প্রথমে ৮১ ব্যাচ (ফ্রেসার) এবং পরে অন্য হলের গণরুমে থাকা ৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কক্ষ বণ্টন করা হয়। অন্যদিকে ৭৯ ব্যাচের বড় একটি অংশ এবং ৭৮ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী এখনো অন্য হলগুলোতে ডাবলিং (এক খাটে দুজন) করে থাকছেন। এমনকি একটি কক্ষে ৮-১০ জন করে থাকারও তথ্য মিলেছে। একই চিত্র মেয়েদের হলেও।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আমরা ১৯-২০ সেশনে ভর্তি হয়েছি, এখন ৫ম সেমিস্টার শুরু হতে চলেছে। গত তিন বছর যাবৎ কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১১৮ ও ১১৯ নম্বর গণরুমে অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর ছাত্রজীবন পার করছি। সিট সংকট সমাধানে সদ্য চালু হওয়া শেখ লুৎফর রহমান হলে গণরুমে থাকা ছাত্রদের স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রশাসন গণরুমে আছি তার সত্যতা যাচাইপূর্বক আমাদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। হল প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক নতুন হলে উপস্থিত হলেও নানা নাটকীয়তার মাধ্যমে আমাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। গণরুমের অন্য সবারই নতুন হলে যাওয়ার সুযোগ হলেও আমাদের হয়নি। তবে ছাত্র ছাত্র কিসের বৈষম্য?’ আরেক শিক্ষার্থী তিন বছর ধরে গণরুমে থাকার কষ্টের বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, ‘আচ্ছা গণরুমে বেড শেয়ার করে থাকা কোনো ছেলের যদি মৃত্যু হয়, আর তার যদি কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকে, তাহলে ভার্সিটি অন্তত কবরটা দিতে দিবে? নাকি সেখানেও কবর শেয়ার করতে হবে? সিনিয়র ভাই, শিক্ষক, প্রশাসন কই, আর কোনো আশা দেখি না। হেরে গেছি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেখ লুৎফর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘সমস্যা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি, কাজেই সমাধানও এক দিনে হবে না। সবাই সিঙ্গেল সিট পাবে, একটু সময় দিতে হবে।’ জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের সিঙ্গেল সিট বরাদ্দে অগ্রাধিকার যৌক্তিক কি নাÑ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত