সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সূর্যমুখী হাসিতে রাজশাহী

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৭:০১ এএম

রাজশাহী নগরীর কল্পনার মোড় থেকে তালাইমারী সড়ক দিয়ে পথ চললে চোখে পড়বে সড়ক বিভাজনে সারি সারি দাঁড়িয়ে সবুজ গাছ। ফুটে আছে সূর্যমুখী ফুল। ফোর লেন এ সড়কটিকে যে কারও মনে হবে তিনি চলছেন ফুল বাগানের ভেতর দিয়ে। শুধু এই সড়কে নয়, শহরের সবগুলো প্রশস্ত রাস্তার মাঝে বিভাজনে লাগানো হয়েছে অসংখ্য গাছ। এর মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাজশাহী সিটি করপোরেশন লাগিয়েছে সূর্যমুখীর গাছ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহরের ভেতরে রাস্তার বিভাজনে সূর্যমুখীগাছ লাগানোর ওপর জোর দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এসব গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে এমনই নয়, এগুলো থেকে বীজ বা তেল উৎপাদনের কথাও ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। রাসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, সূর্যমুখীগাছ লাগানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও এটি চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সূর্যমুখী ফুল তো বাড়তি সৌন্দর্র্য দেয়ই।

সম্প্রতি রাজশাহী শহরের ভেতরকার প্রধান প্রধান রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তাই এখন ফোর লেন। আর এসব রাস্তার মাঝের বিভাজনগুলো সাজানো হয়েছে ছোট ছোট গাছ দিয়ে। পাতাবাহারের সঙ্গে লাগানো হয়েছে অসংখ্য ফুলগাছ। এসব ফুলগাছ শহরের সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্য মতে, রাজশাহী নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন শাখা শহরের মোট ৪টি সড়কে সূর্যমুখী ফুলের গাছ লাগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই বছর ধরে এ কাজটি করা হচ্ছে। এবার ৪টি সড়কের বিভাজনে প্রায় ১০ হাজার সূর্যমুখী গাছ লাগনো হয়েছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বিলশিমলা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের ওপরে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে আছে সড়কবাতি। আর বাতির নিচেই সড়ক বিভাজনে হাসি ছড়াচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। নগরীর তালাইমারী থেকে কোর্ট চত্বর পর্যন্ত রাজমুকুট বাতির নিচে লাগানো হয়েছে সূর্যমুখীর ফুল গাছ। আলিফ লাম মিম থেকে বিহাস পর্যন্ত সড়কেও লাগনো হয়েছে সূর্যমুখী ফুল গাছ।

রাজশাহী নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার ইজহারুল ইসলাম থাকেন ঢাকায়। বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। বললেন, ‘ঢাকা থেকে কিছুদিন পরপর রাজশাহী আসি। যখনই আসি, তখন মনে হয় এক শান্তির শহরে আসলাম। রাস্তাগুলো অপরূপ লাগে ফুলগাছের জন্য। এবার এসে দেখছি সূর্যমুখীর বড় বড় গাছ। ফুল ফুটেছে। দারুণ লাগছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহরের সব রাস্তাতেই এই গাছটা লাগালে ভালোই লাগবে।’

সরকারি চাকুরে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ এসে যখন বলে, আপনাদের শহরটা সুন্দর। শুনতে ভালোই লাগে। রাস্তার মাঝে গাছ লাগানোর কারণে আমাদেরও চলাফেরা করতে ভালো লাগে। বিভাজনের এসব গাছের কারণেই মনে হয় অন্য জেলার মানুষ এটিকে সুন্দর শহর বলেন।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ উল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন দুই বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছে। প্রথম বছর আমরা বেশ ভালো সাড়া পাই। এরপর সেই ফুল থেকে যে বীজ পাই, সেটি দিয়ে আবার চাষ শুরু করেছি। এবার আমরা ১০ হাজার সূর্যমুখীর চারা লাগিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এসব সূর্যমুখীর গাছ থেকে সৌন্দর্যের পাশাপাশি অর্থও আসবে। গত বছর আমরা একটি সড়কে সরষে ফুল চাষ করেছিলাম। সেখান থেকে দেড় মণ সরষে পেয়েছি। এবার যে সূর্যমখী হবে, এখান থেকেও বেশ ভালো তেলবীজ পাব।’

সৈয়দ মাহমুদ উল ইসলাম বলেন, ‘তেলের দাম অনেক সময় বেড়ে যায়। আমরা এখান থেকে মানুষকে আগ্রহ ও উৎসাহ দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছি। আইল্যান্ডের জমি তেমন উর্বর নয়। তবুও সেখানে সূর্যমুখী যেভাবে হচ্ছে, বাড়িতে বা পতিত জমিতে অনেক ভালোভাবে হবে। মানুষ এগুলো যদি নিজেদের বাড়িতে চাষ করতে শুরু করে, তবে আমরা তেলবীজ বেশি উৎপাদন করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। গত বার সরষে, এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি।’

তিনি বলেন, চলতি বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশন পর্যন্ত রাস্তার ধারে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য মোট ৩৪ হাজার গাছ লাগিয়েছে। এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত এই সংখ্যা ৫০ হাজার হবে। আর গত চার বছরে রাজশাহী নগরীতে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন জাতের ১ লাখ ৬৭ হাজার গাছ লাগনো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত