বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই লক্ষণ শুভ নয়

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ১২:৩৮ এএম

স্থূলতা বা ওবেসিটি হলে, শরীরে জমা হয় অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বি। স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকির কারণে, কমে যেতে পারে আয়ু। এর পাশাপাশি শরীরে দেখা দেয়, নানা ধরনের জটিলতা। বিশেষ করে, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এছাড়াও হতে পারে শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস। মূলত কায়িক শ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করার ফলেই, এটি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে বেশি পরিমাণে হচ্ছে এটি। তবে আমাদের দেশে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা বেড়েই চলেছে।

গতকাল দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘শিশু-কিশোরদের স্থূলতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, দেশে মোট প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ১৮-২৪ শতাংশ দৈহিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনে ভুগছেন। তবে সংখ্যার চেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হলো, দেশে নতুন করে মানুষের মধ্যে দৈহিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে। বিশেষ করে গত ২০ বছরে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অর্থাৎ শিশু-কিশোরদের মধ্যে দৈহিক স্থূলতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি। আগে যেখানে ৪-৫ শতাংশ শিশু-কিশোরের দৈহিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন ছিল, এখন সেটা বেড়ে ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ এ সময়ে দৈহিক স্থূলকায় শিশুদের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে গেছে।

সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসএমএমইউ ২০১৪ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বলেছে, তখন ৬-১৫ বছর বয়সী স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের মধ্যে দৈহিক স্থূলতা ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশের ও অতিরিক্ত ওজন ছিল ৯ দশমিক ৫ শতাংশের। গ্রামে এই হার মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ও শহরে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ছেলেশিশুরা বেশি স্থূলতায় ভুগছে অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। মেয়েশিশুদের মধ্যে এ হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউর শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সুরাইয়া বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণত দেখা যায় মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ শিশু-কিশোরের অতিরিক্ত ওজন। কিন্তু মা অথবা বাবার যদি ওজন বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ শিশু-কিশোরের ওজন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি দুজনেরই ওজন বেশি থাকে, তাহলে ৭০ শতাংশ শিশু-কিশোরের ওজন বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

‘কেন দৈহিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএসএমএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ যে পরিমাণ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে, সারা দিনে যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তাতে দেখা যায় দিন শেষে বেশ পরিমাণ ক্যালরি অব্যবহৃত হিসেবে থেকে যায়। বাংলাদেশের মানুষের যে সামগ্রিক জীবনযাপন পদ্ধতি, তাতে তার বয়সের সাপেক্ষে যে পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম করার কথা, তার চেয়ে কম করেন। এর মধ্যে যার যেটুকু খাওয়া দরকার, সে সেটুকু খায়, আবার কেউ কেউ বেশি খায়। তিনি আরও বলেন, ‘এখন যেকোনো বিল দিতে মোবাইল বা ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছি। সামাজিক কাঠামোগুলো আস্তে আস্তে কমছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে আবশ্যিক হওয়ার কথা ছিল খেলার মাঠ। ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করবে। কিন্তু খেলার মাঠ কমছে। তাই আমরা এখন বলছি, খেলার মাঠ থাকুক বা না থাকুক, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপরের ক্লাসে যেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ শারীরিক শ্রম বাধ্যতামূলক করতে হবে।’বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী একটা নির্দিষ্ট ওজন থাকা দরকার। গড়ে কারও যদি উচ্চতা ১৩৪ সেন্টিমিটার হয় তাহলে তার দৈহিক ওজন ৭০ কেজির কম হবে। এটা গড় হিসাব। যদি নারী হয় তাহলে তার ওজন আরও ৫ কেজি কম হবে। এটা থেকে যত বেশি ওজন হবে, তত বেশি উদ্যোগ নিতে হবে ওজন কমানোর।

বিশেষ করে, নাগরিক জীবনের শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই চিত্র বাড়ছে। এসব শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। খেলার মাঠ নেই। যে কারণে, দিন দিন তারা আসক্ত হচ্ছে মোবাইল বা কম্পিউটারে। এ থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে তার জন্য বিশেষভাবে সমাজের বিভিন্ন সচেতন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসা দরকার। মনে রাখতে হবে ওরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত