বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রঙ উৎসব-নাচগানে নতুন চা পাতা তোলা শুরু

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ০৬:৩৬ পিএম

উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রঙের উৎসব আর নাচগানে নতুন চায়ের পাতা (কুড়ি) তোলা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার চা বাগানগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে চা পাতা তোলা শুরু হয়।

সকাল ১০ টায় উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ব্যক্তি মালিকানাধীন দলই চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চা বাগানের সেকশনে সেকশনে চা গাছে নতুন কুঁড়ি সবুজের শোভা বাড়াচ্ছে। সতেজতায় হাসছে চা বাগান। বাগান কর্তৃপক্ষ ও চা শ্রমিকরাও অধীর আগ্রহ নিয়ে চা পাতা তুলতে জড়ো হয়েছেন।

সাধারণত ডিসেম্বরে মৌসুমের শেষে চা গাছ ছাটাই বা কলম এর পর নিয়মানুযায়ী দু’তিন মাস চা বাগান থেকে পাতা তোলা বন্ধ থাকে। ফলে চা কারখানাও অলস পড়ে থাকে। নতুন কুঁড়ি গজানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে চা পাতা তোলার মাধ্যমে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়।

এ বছরও এর কোমো ব্যতিক্রম ঘটেনি। চা বাগান শ্রমিক ও পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শ্রমিকরা পূজা অর্চনা, গীতাপাঠ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া মাহফিলসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাগানের চা শ্রমিকদের নিয়ে নতুন পাতা তোলা হয় শুরু হয়। এরপর নাচেগানে ও একে অপরের গায়ে রঙ দিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন চা শ্রমিকরা।

দলই চা বাগানের নারী শ্রমিক সারতী সাওতাল, আশা বাউরী, বাসন্তী পাশী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতি বছরই পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে চা পাতা তোলা শুরু হয়। পাতা তোলার আগে তারা একটি চা গাছকে উপলক্ষ্য করে ফুল ও প্রসাদ দিয়ে পূজা করেন। এটাকে তারা বনদেবীর পূজা বলেন। এই পূজা করা হয় চা বাগানের সেকশনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে। নেচে গেয়ে আনন্দঘন পরিবেশে তারা চায়ের কুড়ি তোলায় লেগে পড়েন। এরপর চা বাগানের স্টাফসহ সবাই তাদের সাথে নাচে অংশ নেন।

দলই চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আসগর আলী বলেন, প্রতিবছর আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম চা পাতা তোলার চেষ্টা করা হয়। তবে, এবছর আনন্দ উৎসবের মধ্যেও সবার মন ভাল নেই। চা বাগানগুলোতে বৃষ্টির অভাব। বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে চা গাছ মারা যাচ্ছে, বাগানের চারিদিকে পানি দিয়ে আমরা কূলকিনারা পাচ্ছি না। চা বাগানগুলো ও শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টির দাবি তার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত