বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘মেঘের নৌকা’য় কোনালের আনন্দ ভ্রমণ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩, ০১:১৩ এএম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সোমনুর মনির কোনাল ‘মেঘের নৌকা’য় দারুণ আনন্দে ভেসে বেড়াচ্ছেন। কারণ সংগীতাঙ্গনের এই বেহাল দশায় তার একটি গান দারুণ সাড়া ফেলেছে। ‘মেঘের নৌকা’ শিরোনামের গানটি ‘প্রহেলিকা’ নামের মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমার। মাহফুজ আহমেদ ও বুবলীর শাপলা বিল আর সমুদ্রস্নানেও মেতেছে দর্শক। কোনালের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান। গানটির দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ফেসবুকে একটা ভিডিও শেয়ার করেছি। মুক্তির মাত্র ৭-৮ দিনের মাথায় একটি গান এ রকম সাড়া ফেলেছে! “মেঘের নৌকা” আমি স্টেজে গাইলাম, এরই মধ্যে মানুষ গানটি গুনগুন করছে, আমার সঙ্গে গাইছে নাচছে। এটা আসলে পরম পাওয়া। এত দ্রুত একটি গানের রেসপন্স এতটা আশাই করা যায় না। কিছু গান থাকে, ছড়িয়ে পড়ে হিট হয়। কিন্তু কিছু গান থাকে যেটার রেসপন্সে বোঝা যায় গানটি মানুষের মনে ঢুকে গেছে। “মেঘের নৌকা” আমার কাছে তেমনি একটি গান মনে হচ্ছে। শুধু ভক্ত-দর্শকশ্রোতা নয়, আপনার সঙ্গে কথা বলার ঠিক দুই ঘণ্টা আগে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, “অনেক আগে বাংলা সিনেমায় যেমন মিষ্টি গান হতো, মানুষের মুখে মুখে ফিরত এবং যা আজও মানুষ গুনগুন করে, মেঘের নৌকা আমার কাছে তেমনি লেগেছে।” এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? মানুষের ভালোবাসা, মানুষের স্বীকৃতির চেয়ে আর কী স্বীকৃতি হতে পারে?’

কোনালের শোবিজ ক্যারিয়ার কম দিনের নয়। শুরু থেকেই তিনি জনপ্রিয়, তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। দেশের প্রথম সারির গায়িকাদের মধ্যেও তার নামটি আসত। কিন্তু তার বর্তমানের উত্থান অন্য রকম। তিনি নিজেকে আরও পরিণত করেছেন, আরও উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন দিনকে দিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সত্যি বলেছেন। আমি শুধু কাজটাই করে গেছি মন দিয়ে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি। আমাকে অযাচিতভাবে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সে সময় আমি ছিলাম একেবারেই নীরব। মনে করেছিলাম, আমি গানের শিল্পী, গানটাই মন দিয়ে গাইতে হবে। একদিন সবকিছুর উত্তর আমার গানেই পাওয়া যাবে। সেই বন্ধুর সময় যদি আমি মুখ খুলতাম, প্রতিবাদী হতাম তাহলে হয়তো আমার লক্ষ্য থেকে সরে যেতাম। কিন্তু সেটি আমি চাইনি। কারণ গানটাকে বড্ড ভালোবাসি। গান ছাড়া থাকতে পারব না। শুধু চাই মনের মতো গান করে যেতে। যারা সেই সুযোগ আমাকে করে দিচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এই গায়িকা। নিয়মিত স্টেজ মাতাচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফেম অ্যাওয়ার্ডে (বাইফা) সেরা গায়িকার স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেদিনও তিনি আর্মি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করে তারপর অ্যাওয়ার্ড নিতে এসেছিলেন। এ সময়ের ব্যস্ততা নিয়ে শিল্পী বলেন, ‘স্টেজ শোর ব্যস্ততা তো রয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ডিং নিয়েও ব্যস্ততা যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন নতুন গানে কণ্ঠ দিচ্ছি। এখন তো নাটকের জন্য মৌলিক গান হচ্ছে প্রচুর। শিল্পীদের জন্য এটা নতুন একটি জায়গা, যেখানে গান গেয়ে দ্রুত অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই আমিও ইদানীং বেশ কিছু নাটকের গানে কণ্ঠ দিলাম।’

সম্প্রতি কোনালের একটি মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি এতদিন নিজের মিউজিক ভিডিও বা সিনেমার নায়িকাদের জন্য গেয়েছেন। কিন্তু এবারই প্রথম অন্য একজন সমসাময়িক কণ্ঠশিল্পীর ঠোঁটে শোনা যাবে কোনালের কণ্ঠ। অনেকেই জানেন, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পড়শি এখন নাটকের নায়িকা হিসেবে ভালোই ব্যস্ত। তার অভিনীত একটি নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল। গানটির সুর-সংগীত করেছেন আভরাল সাহির। এই গানের অভিজ্ঞতা শোনা যাক কোনালের মুখেই, ‘এটা সত্যিই অন্যরকম ভালোলাগার অভিজ্ঞতা। পড়শি তো একটু আদুরে আদুরে গলায় কথা বলে। তাকে আমি যতটাই কাছ থেকে চিনি না কেন, এই প্রজেক্টে তো সে আমার চোখে নায়িক। তাই গানটি তার মতো করেই গাওয়ার চেষ্টা করেছি। গানটি স্যাড মুডের, কিন্তু দর্শকের ভালো লাগবে বলে আশা করি।’

গত ভালোবাসা দিবসেও কোনালের বেশ কিছু নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে তরুণ প্রজন্মের শিল্পী শেখ সাদির সঙ্গে গাওয়া ‘চোখের বারান্দা’য় গানটির ইউটিউব ভিউ সবচেয়ে বেশি। আবার কোনালের অনেক সিনিয়র শিল্পী আর্ক ব্যান্ডের সুমনের সঙ্গেও তিনি গান প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তার সমসাময়িক ইমরানের সঙ্গেও তার মিউজিক ভিডিও এসেছে। সব গানই দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত