সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পেছনে দুই নেতা অস্বস্তি সরকারে

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৩, ০১:৩৯ এএম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা সরকার ও আওয়ামী লীগকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। উচ্চ আদালতে প্রভাব বিস্তার করা এক মন্ত্রী ও একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা ও আইনজীবী নেতার।  

আওয়ামী লীগের ওই নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি বছর আমাদের আরও সতর্ক ও সংযম প্রদর্শন করে চলতে হবে। কারণ চলতি বছরই জাতীয় নির্বাচন।’ তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ভোটকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করা না করা নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দেবে, যা সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। সুপ্রিম কোর্টে উদ্ভূত পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি। ভোট শেষে এই ঘটনা নিয়ে তিনি বসবেন বলে জানা গেছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেষ্টা করেছিলাম অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়িয়ে যাতে সুন্দর নির্বাচন হয়। কিন্তু পারিনি। এর বেশি কিছু আর বলতে চাই না।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থ ও বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এত বড় ঘটনা ঘটেছে। বিকল্প অনেক উপায় ছিল এমন লক্ষ্য পূরণে।’ 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাইকোর্ট চত্বরে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন আইনজীবী নেতার কক্ষে বসে গত বুধবারের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তাদের মুখেও শোনা গেছে অস্বস্তির কথা। সেদিন অনেক আইনজীবীকে তাদের আইন পেশা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। অথচ আদালত অঙ্গনে সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোট চলছিল। ভোট নিয়ে ভ্রƒক্ষেপ ছিল না ওই সরকারি দল সমর্থক আইনজীবীদের। তারা কোনোভাবেই ভোটকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার সমালোচিত হয়েছে তা সমর্থন করছেন না।

উচ্চ আদালতে আইন পেশায় জড়িত এক প্রভাবশালী আইনজীবী ও সাবেক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বুধবারের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। দুই জনের ব্যক্তিস্বার্থ ও এক মন্ত্রীর বাহবা নেওয়ার চেষ্টায় মূলত এ ঘটনা ঘটেছে। এটি বড় ক্ষতির মুখেমুখি করতে পারে সরকার ও আওয়ামী লীগকে।’ তিনি বলেন, এই নির্বাচন কি সরকার পরিবর্তনের? তাহলে এত বড় ঝুঁকি কেন নিতে হবে?

সিনিয়র এ আইনজীবী আরও বলেন, গত কয়েক বছরে আলোচনার মধ্য দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত যেমন গ্রহণ করা হয় না, তেমনি এখানে যাদের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন, যারা দক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য তাদের অন্তর্ভুক্ত করা বা পরামর্শ শোনা হয় না। ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের ভেতরে। এ কারণে সর্বোচ্চ আদালত চত্বরে আওয়ামী লীগের শক্তি ক্ষয় হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক সিনিয়র-জুনিয়র কয়েকজন আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বছরই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন বিতর্কে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী একাধিক দল নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। একেবারেই ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এসব ছোটখাটো ভোটে জিতে মরিয়া অবস্থান নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলা অযৌক্তিক।

সুপ্রিম কোর্ট বারের এবারের (২০২৩-২০২৪) নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল নির্বাচন করেছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (নীল প্যানেল) সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এম. মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক পদে সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, মূলত ব্যালট নাকি ইসিএমে (ইলেকট্রনিক কাউন্টিং মেশিন) নির্বাচন হবে তা নিয়ে দুই প্যানেলের বিরোধ মারামারিতে গড়ায়। সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ব্যালটে ভোটগ্রহণের পক্ষে অনড় থাকেন। এ নিয়ে দুই প্যানেলের বিরোধের কারণে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ভোটের আগে পদত্যাগ করেন। দুই পক্ষ মিলে তাকে ফেরানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয় ব্যালটে অনড় অবস্থানের কারণে। পরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ইসিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দেয়।

আওয়ামীপন্থি কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, সামনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। তাদের কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাতে ‘ঘি না পড়ে’ সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এমন কোনো পরিস্থিতি যাতে তাদের দ্বারা সৃষ্টি না হয় যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত