বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চিরকালের গান

শৈশবকে মনে করিয়ে দেবে কার্পেন্টার্স

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৩, ১০:৪৭ পিএম

মৃত্যু অবধারিত। তবে সব মৃত্যুই আকাঙ্ক্ষিত নয়। কোনো কোনো মৃত্যু স্পষ্ট দাগ রেখে যায়। এমনই এক মৃত্যু দেখেছিল বিশ্বসংগীত।

১৯৮৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এক জটিল রোগে পরলোকে পাড়ি জমান পৃথিবীর সবচেয়ে নন্দিত 'সুপার ক্লাসিক ডুও' দ্য কার্পেন্টার্সের ক্যারেন আ্যানি কার্পেন্টার।

এবার আসি কার্পেন্টার্সের গল্পে। ভাই রিচার্ড লিন কার্পেন্টার আর তার ছোট বোন ক্যারেন আ্যানি কার্পেন্টার-এর জন্ম কানেক্টিকাটের নিউ হ্যাভেনে। ভাইয়ের জন্ম ১৯৪৬-এ আর বোনের ১৯৫০-এ। বিশ্বসংগীতে ষাট থেকে আশি- এই তিন দশক ছিল রকএনরোলের উত্থানের সময়। এ সময়ই বিশ্বসংগীতের দুই শাসনপ্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে একের পর এক উত্থান ঘটতে থাকে বাঘা বাঘা সব রক, হার্ড রক, মেটাল ও হেভি মেটাল ব্যান্ডের। যাদের গানের বৈশিষ্ট্য ছিল দ্রুতগতির বেজওয়ার্ক, হেভি সাউন্ডেড রিদম প্রোগ্রামিং, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে এতটা কর্কশ গিটারওয়ার্ক এবং এসবের সঙ্গে তালমেলানো ভোকাল।

তবে এসবের থেকে একেবারেই আলাদা ছিলেন কার্পেন্টার্স। তাদের সুরেলা, শ্রুতিমধুর আর মনোমুগ্ধকার সংগীত আয়োজনের সঙ্গে ছিল ক্যারেনের মিষ্টি মোলায়েম গলার কাজ। যা তাদের গানকে একটি অন্য আলোতে পৌঁছে দেয়। তাদের গানগুলো এক অন্য রকম আনন্দের যোগান দিত শ্রোতাদের।

কার্পেন্টার্সের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র ১৪ বছর। আর এ সময়ের মাঝেই তারা ১০টি স্টুডিও অ্যালবাম ও অসংখ্য সিঙ্গেলস রিলিজ করে। আর এ গানগুলো এখনও শ্রোতপ্রিয়, নিঃসন্দেহে।

পুরো সত্তর দশক ও আশির দশকের শুরুর খানিকটা সময় (ক্যারেনের মৃত্যু পর্যন্ত) সক্রিয় ছিলেন কার্পেন্টার্স। তাদের গানগুলো ছিল পপ এবং সফট রক ঘরানার।

রোলিং স্টোন দ্য কার্পেন্টার্স সম্পর্কে বলছে, পৃথিবীর সেরা ২০টি ডুওর মধ্যে ওরা আছেন ১০ নম্বরে। আর ক্যারেনকে বলা হয় পৃথিবীর সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীদের মাঝে অন্যতম। স্যার পল ম্যাকার্টনি এক পা এগিয়ে ছিলেন, তিনি ক্যারেন সম্পর্কে বলেন, ও পৃথিবীর সেরা নারীকণ্ঠ। সবচেয়ে মেলোডিয়াস, সুরেলা এবং অবশ্যই স্বতন্ত্র।

গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি ড্রাম বাজাতেন ক্যারেন। আর রিচার্ড বাজাতেন পিয়ানো এবং কিবোর্ড। সেই সঙ্গে রিচার্ড ছিলেন রেকর্ড প্রডিউসার এবং কার্পেন্টার্সের সংগীত পরিচালক।

মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই নিভে যান ক্যারেন। কেন, কিভাবে তা প্রায় সবারই জানা। আমরা শুধু এটুকুই জেনে রাখি- এখনও আকাশে তারা হয়ে আছেন ক্যারেন অ্যানি কার্পেন্টার, তার গানের মতোই।

গানের গল্প
'ইয়েসটার্ডে ওয়ানস মোর' এই ডুওর অন্যতম সেরা গান। এটি এতটাই জনপ্রিয় যে এখনও এর আবেদন সামান্য কমেনি। পৃথিবীর অন্যতম সুরেলা ও আবেদনময়ী গান হিসেবে বিবেচিত। একটি ব্যালাড যে এতটা আনন্দময় হতে পারে তা এই গানটি না শুনলে বোঝা মুশকিল।

গানটির কথা লিখেছিলেন রিচার্ড কার্পেন্টার ও জন গ্রেগরি বেটিস। গানটি ১৯৭৩ সালের ১ মে প্রকাশিত দ্য কার্পেন্টার্সের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম 'নাও অ্যান্ড দেন'-এ স্থান পায়।

অনেক কথা হলো, এবার আসুন গানটি শুনে নিই এবং ফিরে যাই আমাদের ফেলে আসা শৈশবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত