মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বস্তা বদলে ভারতীয় আলু হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ০৩:৪৫ পিএম

পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আসছে ভারতীয় আলু। প্রকাশ্যে দিবালোকে আসা এসব আলু বস্তা বদলে হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঘাগড়া সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন ধরেই জমে ওঠেছে ভারতীয় আলুর কারবার। স্থানীয় চোরাকারবারিদের মাধ্যমে এসব আলু কিনছেন বহিরাগত ব্যবসায়ীরা। বিজিবির ক্যাম্পের সামনে দিয়েই এসব আলু পারাপার হলেও ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজসেরও অভিযোগ রয়েছে বিজিবির বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্নভাবে বিপুল সংখ্যক আলুর বস্তা সাজানো রয়েছে ট্রাকে লোড করার অপেক্ষায়। আবার কারো আলু লোড হচ্ছে ট্রাকে। অন্যদিকে, ভারতীয়দের জমি থেকে বস্তাভর্তি আলু বিভিন্নভাবে দেশের সীমানায় আনছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। সেখান থেকে ভ্যান বা পিকআপে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট স্থানে। কেউ কেউ ভারতীয় বস্তা বদলে এসব আলু ভরছেন অন্য বস্তায়। সব প্রস্তুতি শেষে তোলা হবে ট্রাকে।

জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঝুলিপাড়া, মমিনপাড়া, তিনঘড়িয়া পাড়া এবং বাঙালপাড়া- এই চারটি গ্রাম ভারতের সীমান্ত ঘেষা। এই চার গ্রামের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ভারতের কয়েকটি গ্রামের। ওই গ্রামগুলোর অবস্থান ভারতে হলেও কাঁটাতারের বেড়া তাদের প্রতিবেশী গ্রামগুলো থেকে আলাদা করতে পারেনি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় পাশের স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি জায়গাটি বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতে আলুর দাম কম হওয়ায় এমনটা করছেন তারা। মাত্র ৩ টাকা কেজিতে কেনা এসব আলু ১১ থেকে ১৩ টাকা দরে পাইকারি কিনছেন ব্যবসায়ীরা। মুজুরি, পরিবহন খরচ আর বিভিন্নজনকে ম্যানেজ করতে গিয়ে খুব বেশি লাভ থাকে না দাবি তাদের।

এসব আলুর বিষয়ে কথা বলতে গেলে কেউ কেউ ভারতীয় বলে স্বীকার করলেও অনেকেই এড়িয়ে যান। দাবি করেন সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশিদের চাষের আলু এসব।

স্থানীয় কয়েকজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধ পথে আসা আলু কম রেটে কেনা হচ্ছে। আবার বিক্রিও হচ্ছে কম দামে। এতে দেশের আলুর চাহিদা অনেকটাই কমে আসবে এবং ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবে চাষিরা। এসব আলু বৈধপথে আসলে সরকারও রাজস্ব পেত।

এদিকে, বিষয়টি নজরে আনলে অভিযান চালান বিজিবি। জব্দ করেন মাত্র ৬৬ বস্তা আলু। বিপুল পরিমাণ আলু আসলেও জব্দের পরিমাণ এত কম কেন?- এর সদুত্তর মিলেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, বিজিবিকে ম্যানেজ করেই সীমান্তে অবৈধ ব্যবসা চলছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দায়সারা দায়িত্ব দেখাতে কিছু আলু জব্দ করেন তারা। এই ৬৬ বস্তা আলু জব্দ করে বিপুল সংখ্যক আলুর বৈধতাও দিয়েছে বিজিবি।

এবিষয়ে বিজিবি ঘাগড়া ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজল মজুমদার বলেন, আমরা অভিযান চালিয়েছি। যাচাই বাছাই করে যেগুলো মালিকবিহীন এবং কোন কাগজপত্র নেই এমন ৬৬ বস্তা জব্দ করেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্ত চিহ্নিত করা খুবই কঠিন। উভয় দেশের জমিতেই আলু চাষ হচ্ছে। কোনটা ভারতের সেটা বোঝা মুশকিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত