বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আ. লীগ পাকিস্তান আমলের মতো শোষণ করছে: ফখরুল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ০৫:৫২ পিএম

আজকের বাংলাদেশ ৭১ সালের পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এবং পাকিস্তান শাসকের প্রেতাত্তার বাংলাদেশ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাকিস্তান যেভাবে শাসন করেছে, শোষণ করেছে আজকে একইভাবে এই আওয়ামী লীগ যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে রয়েছে তারা বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করছে। বাংলাদেশের মানুষকে ভয়ঙ্কর ভাবে শাসন করছে নির্যাতন নিপীড়ন করছে।

‘এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি; আমরা চেয়েছিলাম একটি সার্বভৌম গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। আমাদের স্বপ্ন দেখেয়েছিলো পূর্বপুরুষেরা- একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, যেখানে সমস্ত মানুষ সাম্যের মধ্যে বাস করবে, ন্যায় বিচারের মধ্যে বাস করবে, মানবিক মর্যাদা নিয়ে বাস করবে, কল্যাণের মধ্যে বাস করবে। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে ৫২ বছর পরেও বলতে হচ্ছে যেই বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম সেই বাংলাদেশ আমরা পাইনি।’

সোমবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা গণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায়ের দীপ্ত শপথে মুক্তিযোদ্ধা গণসমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তারা মনে করে তারা একাই এই দেশটা স্বাধীন করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যুদ্ধ করে নাই।

ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের জাতিকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তিনি যেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন দেশের জন্য, জাতির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, তার জন্য আমাদেরও কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিনি আট হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন কারণ কি মিথ্যে মামলা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে ৩৫ লাখ কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা। এখানে যারা মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন শতকরা ৮০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। কেউ বাকি নেই, মিথ্যে মামলা, অত্যাচার, গুম, খুন এসবের মধ্য দিয়ে এই সরকার জোর করে ক্ষমতাটাকে ধরে রেখেছে।

নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবার নাটক করে; নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আমাদের নিকট চিঠি পাঠায়। আমরা যদিও ওই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু এ ধরনের বিষয় নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা ভুল বুঝানোর কোন প্রয়োজন নেই। আমরা মনে করি সংকট একটাই সেই সংকট হচ্ছে কিভাবে হবে, কোন ব্যবস্থায় হবে। নির্বাচন অবশ্যই একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষ সরকারের দিনে হতে হবে। কথা হলে সেই বিষয়ে হবে অন্য কোন বিষয়ে কথা হবে না।

ফখরুল বলেন,পরিষ্কার করে বলছি এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেই কমিশনারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন সরকার নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা চেতনা- সত্যিকার অর্থে সাম্য মানবিক মূল্যবোধের একটি কল্যাণমূলক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, ৩৫ লাখ নেতা কর্মীদের যে বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

ফখরুল বলেন, আজকে মুক্তিযোদ্ধারা শপথ নিয়েছে, নতুন প্রজন্ম শপথ নিয়েছে এই সরকারকে অপসারণ না করে তারা ঘরে ফিরে যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, জয়নুল আবেদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, সংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত