শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিসিবির ‘মনোযোগ’ বিকেন্দ্রীকরণ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:০৮ পিএম

ক্রিকেটাররা সারা বছর একাডেমিতে কঠোর অনুশীলন করেন। নিজেদের পারফরম্যান্সে শান দেন। অপেক্ষায় থাকেন তারা স্থানীয় কোনো লিগের। কিন্তু জেলা ক্রিকেট কমিটির সেদিকে কোনো হুঁশই থাকে না। দিনের পর দিন কেটে যায়, লিগ শুরুর আর খবর থাকে না। আয়োজন নিয়ে বিসিবি ও জেলা কমিটি দোষারোপ করে একে অন্যকে। স্থানীয় সংস্থাদের অভিযোগ থাকে বরাদ্দ না পাওয়ার। আবার বিসিবি সন্তুষ্ট থাকে না স্থানীয় সংগঠকদের পারফরম্যান্সে।

এবার সেই সব জটিলতা কাটানোর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত বছর অনুমোদন পাওয়া আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম দ্রুত শুরুর তাগিদ দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংস্থাগুলোকে ২০ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি বার্ষিক সাধারণ সভায়। তবে সব জেলার বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে। 
স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার যে প্রক্রিয়া তার অন্যতম একটি জেলা পর্যায়ের প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ কিংবা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। তবে অনেক জেলায় সেগুলো বন্ধ আছে দীর্ঘদিন ধরে। কোনো জেলায় সেটা চালু থাকলেও  সেখানে আবার চলে জোড়াতালির লিগ। স্থানীয় সংগঠকদের দাবি আবার বরাদ্দ পান না তারা। বিষয়টি আবার অস্বীকারও করেননি বিসিবি সভাপতি।

সাধারণ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাপন বলেছেন, ‘সব জেলা বরাদ্দ পায় না এটা সত্য। কারণ আমরা তাদের কাগজপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারি না। তারা যদি কোনো কার্যক্রম না রাখে তাহলে কীভাবে বরাদ্দ পাবে? তবে সাধারণ সভায় এ নিয়ে কেউ আলোচনা করেনি। বরং বরাদ্দটা বাড়ানোর দাবি এসেছে। লিগ আয়োজনের জন্য আমরা কমপক্ষে ২ লাখ টাকা দিয়ে থাকি জেলাগুলোকে। এখন সেটা ৪ লাখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। সেটাও একটা লিগ আয়োজনের জন্য। একাধিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করলে বরাদ্দটা ৬ লাখ হবে।’
এই টাকাটা এখন জেলা ক্রিকেট কমিটিগুলো পাচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে। অনেক ক্রিকেট সংগঠকের অভিযোগ বরাদ্দের সুষম বণ্টন হয় না বলে। আর তাই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম শুরুর দিকে মনোযোগ বিসিবি সভাপতির। তাহলে বিসিবির টাকাটা কোনো মাধ্যম না ধরে সরাসরি যাবে অঞ্চলগুলোর নীতিনির্ধারকদের কাছে। তাহলে জেলা পর্যায়ে বরাদ্দের সুষম বণ্টনের সুযোগ থাকছে।

তবে প্রশ্ন একটা থেকেই যায়। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে তো? সেখানে কি ক্রিকেট কমিটির হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে তারা? এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন অবশ্য কোনো রাখঢাক রাখেননি, ‘যতদিন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম আমাদের সন্তুষ্ট করতে না পারছে, ততদিন এটা বজায় থাকবে। কারণ স্বাধীনতা দিয়ে দিলাম, আর যা খুশি তা করে বেড়াবে তারা। সেটা হবে না। প্রাথমিকভাবে আমার সবগুলো আঞ্চলিক সংস্থাকে ২০ লাখ টাকা করে দিচ্ছি। স্থানীয় পর্যায়ে একটি টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ। আমরা তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করব। এই বরাদ্দ পেয়ে যারা যত বেশি টুর্নামেন্ট, লিগ আয়োজন করবে তারাই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট করবে আমাদের।’ পাপন যোগ করেছেন, ‘এটা এখনই ডিসেন্ট্রালাইজড হচ্ছে না। আপাতত ডিকনসেনট্রেটেড হচ্ছে। মনোযোগটা ঢাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আঞ্চলিক পর্যায়ে।’

এর মাধ্যমে স্থানীয় ও ঘরোয়া পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। এসব খেলা আবার টিভিতেও দেখানোর ইচ্ছে বিসিবির। আর তাই বিসিবি টিভি নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেল খুলতে যাচ্ছে। যেখানে যেসব খেলা স্বত্ব ক্রেতারা দেখাতে পারবে না, সেসব বিসিবি নিজ উদ্যোগে দেখাবে। কারণ ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে বাজে আম্পায়ারিং, ম্যাচ গড়াপেটাসহ নানান অভিযোগ ওঠে। সেসব দূর করতেই এই উদ্যোগ বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তবে সেটা অনলাইন ভার্সন হবে নাকি স্যাটেলাইট হবে, সেটা এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি।

স্যাটেলাইট চ্যানেল হলে বিসিবির আয়ের খাতটাও বড় হবে। চলতি বছরে যেমন বিসিবির সম্ভাব্য আয় ৪৪৬ কোটি টাকা। সম্ভাব্য ব্যয় ৪০৭ কোটি। সেটা আবার বাড়তে পারে বলে জানান বিসিবির সভাপতি পাপন। বলেছেন, ‘আগে আমাদের অনেক সঞ্চয় হতো। এখন ব্যয়ের মাত্রাটা বেড়ে গেছে। সামনে আমাদের কী হবে সেটা এখন চিন্তার বিষয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত