সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভাগ্য রজনীর সন্ধানে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৭ এএম

জেনে রাখা ভালো : ‘শবেকদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবেকদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। শবেকদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। পবিত্র কোরআন নাজিলের মাধ্যমে মহান আল্লাহ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম করেছেন। প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা কদরের রাত।

কোরআন থেকে : ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ (কদর) রজনীতে। আপনি কি জানেন, মর্যাদাপূর্ণ রজনী কী? মর্যাদাপূর্ণ রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে ফজর পর্যন্ত।’ -সুরা আল কদর 

হাদিস থেকে : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। তারপর আমার প্রতি ওহি নাজিল করে জানানো হলো যে, তা শেষ ১০ দিনে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে। তারপর মানুষ (সাহাবায়ে কেরাম) তার সঙ্গে ইতিকাফে শরিক হয়।’-সহিহ মুসলিম

করব : শবেকদর আমলে কাটানো।

ছাড়ব : সব ধরনের গুনাহ

মাসয়ালা : শবেকদরে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আমল নেই। স্বাভাবিকভাবে কোরআন  তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায় করা এবং তওবা করা উচিত।

ভুল ধারণা : সাতাশের রাতই শবেকদর, এই ধারণা ঠিক নয়। তাই সাতাশের রাতকেই সুনির্দিষ্টভাবে শবেকদর বলা উচিত নয়। এটুকু বলা যায়, এ রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষভাবে বেজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। -মুসনাদে আহমাদ।

আমল :  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কাজা করা। অর্থাৎ বিগত জীবনে যত নামাজ কাজা হয়েছে, তা পূরণের নিয়তে ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার কাজা আদায় করা। হতে পারে মহান আল্লাহ বিগত জীবনের সব কাজা নামাজগুলো কবুল করে নেবেন।

সুসংবাদ : কোনো উম্মত যদি জীবনে শবেকদর শুধু একবার পেয়ে যায় এবং ওই রাতে যথাযথভাবে ইবাদত করে, তাহলে সে যেন হাজার মাসের চেয়ে অধিককাল ইবাদত করল।

উপকারিতা : জীবনে চলার পথে প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় সেসব সমস্যার উপযুক্ত সমধান না পেয়ে হতাশায় নিপতিত হয়। তখন সালাতুল হাজত পড়ে দোয়া করলে তা কবুল হয়।

দোয়া : শবেকদরের দোয়া ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন কারিম তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’-তিরমিজি

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত