সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কেটে গেছে দেশের অর্থনৈতিক সংকট

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৪ এএম

রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে ডলার সংকট অনেকটা কেটেছে এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে। গতকাল রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী একথা বলেন।

আলোচনায় ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বেশ কিছু বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে। যারা দেশ শ্রীলঙ্কা হবে ভেবেছিল, তাদের ধারণাও ভুল প্রমাণ হয়েছে। সন্দেহ ছিল, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল সেগুলো কেটে গেছে। তারপর এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। প্রস্তাব দিলে অর্থ দেওয়া হবে, অর্থের কোনো অভাব নেই।

তিনি বলেন, ‘কাজেই এরকম একটা নিশ্চয়তা পাওয়ার পর আর তো কোনো সন্দেহ নেই। কোনো দ্বিধা নেই। আমরা যেভাবে বাজেট তৈরি করি, সেভাবে এবারও বাজেট তৈরি হচ্ছে।’

তার মতে, যারা দেশে শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হবে ভেবেছিল, তাদের ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।  

মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ বলেছিল আর এই তো বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হলো। শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে? হয়নি তো। আমরা টিকে আছি এবং আগামী বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, দাম কোনোটা বাড়ছে, কোনোটা কমছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি যেভাবে চলে সেভাবে চলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এরকম একটা নিশ্চয়তা পাওয়ার পর আর তো কোনো সন্দেহ নেই। কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। যেভাবে বাজেট তৈরি হয় সেভাবেই তৈরি হচ্ছে বলেন অর্থমন্ত্রী। ইআরএফের প্রস্তাবগুলো বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা ঘুষ-দুর্নীতি। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক অর্থমন্ত্রীর অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কি আপনারও মত? একটা কাগজে তো কত কিছ্ইু বের হয়। সব কিছুই ধরে নেওয়া তো ঠিক না। এটা তো সাংঘাতিক ধরনের আনকাইন্ড, নিজের দেশের প্রতি আপনার কি কোনো কনফিডেন্টসই নেই।’ এরপর তিনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাননি।

আলোচনায় অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, গত এক-দুই তিন মাস দেশের অর্থনীতি খুব ভালো অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় বেড়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে আসছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ১২৫ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় নেমে এসেছে। এগুলো সবই ভালো লক্ষণ। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনশীল মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সভায় ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রী এসব প্রস্তাব আগামী বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দুই বছর ধরে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। গড় প্রায় এক বছরের ওপরে সাড়ে ৯ শতাংশের নিচে নামানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। অনিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, দুর্বল নীতির কারণে নিত্যপণ্য এখনো লাগামহীন অবস্থায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতির এই উচ্চ হারকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল হুমকি বলে মনে করেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে দুই বছর ধরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, সেটাকেও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধান নির্বাহীরা।

তবে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের কারণ হতে পারে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত