সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লিচু বাগানে মধু আহরণ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৯ এএম

ঈশ্বরদী লিচুর জন্য প্রসিদ্ধ। সামনে লিচুর মৌসুম। আর এ সময়ে লিচু মুকুল থেকে মধু আহরণের জন্য ঈশ্বরদীতে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি বাগানে বাগানে মৌমাছির খামার গড়ে তুলেছেন। ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু মুকুল থেকে মধু আহরণে। ঈশ্বরদীর লিচুপ্রধান এলাকাগুলো হলো মানিকনগর, মিরকামারী, বক্তারপুর, জয়নগর, ছিলিমপুর, সাহাপুর, বাঁশেরবাদা। এসব এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা এসে তাদের মৌ-খামার লিচু বাগানের ভেতরে রাখছেন। মৌচাষিরা প্রতিটি লিচুগাছের চারপাশ ঘিরে মৌমাছির বাক্স সাজিয়ে রাখেন। সেখান থেকে মৌমাছি লিচু মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ওই নির্দিষ্ট বাক্সে মধু জমা করছে। এরপর মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করছেন।

ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি সালাউদ্দিন জানান, বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে। মধু আহরণের জন্য ১৬ বছর ধরে লিচুর মৌসুমে ঈশ্বরদীতে মধু আহরণের জন্য অস্থায়ী মৌ-খামার নিয়ে আসেন। তার খামারে প্রায় ২শটি মৌমাছির বাক্স রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মার্চ ও এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ ধরেই লিচু মুকুল থেকে মধু আহরণ কার্যক্রম চলবে। মৌসুমে তার অস্থায়ী মৌ-খামার থেকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন মধু আহরিত হবে বলেও জানান তিনি।

মৌচাষি তরিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও জীবিকার তাগিদে এ কাজ বেছে নিয়েছেন। তাদের আহরিত মধু গুণগত মানে উৎকৃষ্ট। এই মধু স্কয়ার, হামদর্র্দ, এপি ও মডার্ন হারবাল ফুড লিমিটেডের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয় করে। গত বছর প্রতি কেজি মধু ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়।

মিরকামারী গ্রামে ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি আইয়ুব আলী জানান, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন লিচু বাগানে যে সব অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করা হয়েছে তা ভারত থেকে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতি বাক্স মৌমাছির দাম প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতি বাক্সে গড়ে ১০ কেজি করে মধু আহরিত হয়। তিনি  আরও বলেন, অস্থায়ী মৌ-খামারের আশপাশের প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বাগান থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করতে পারে।

ঈশ্বরদী উপজেলার প্রায় ৩০০ ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামার বিভিন্ন বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রতি মৌ-খামার থেকে ২ থেকে ৩ টন মধু আহরণ হবে বলে জানান মৌচাষিরা। সে হিসাবে ঈশ্বরদীতে এবার চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ কোটি টাকার মধু বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটাই ভাবছেন মৌচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে লিচু চাষিরা জানান, প্রতি বছরই তাদের বাগানে লিচুর মৌসুমে মধু আহরণের জন্য ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামারিরা আসেন। বাগানে লিচু মুকুলে মৌমাছি ঘুরে বেড়ানোয় পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বেশ উপকৃত হন। এজন্য তারা অতিথি হিসেবেই ভ্রাম্যমাণ মৌ-চাষিদের সহযোগিতা করেন।

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা রানী সরকার জানান, মধু সংগ্রহ ঈশ্বরদীরধ অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আর কৃষি অফিস থেকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। মৌ-চাষিদের আরও ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারলে এ খাতে আরও উন্নতি সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত