শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আল-শিফায় নিহত ৪০০ তেল আবিবে বিক্ষোভ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৮ এএম

ফিলিস্তিনের গাজার আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে চার শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। উপত্যকার গণমাধ্যম দপ্তর একটি বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। আরেকটি হাসপাতালের ভেতরে সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় দুই সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হয়েছে।

গাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হামাসের গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসা সুবিধা, ওষুধ, রোগীদের আবাস এবং বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির ধ্বংস করেছে। এতে কয়েক হাজার রোগী বিপদাপন্ন হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালের সংলগ্ন জায়গায় এক হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস করেছে। আগুন ধরিয়ে দিয়েছে মানুষের আশ্রয়ে।

আরও অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালটির স্বাস্থ্যকর্মী, বাস্তুচ্যুত মানুষ ও রোগীদের মিলিয়ে প্রায় কয়েকশ মানুষকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে এবং তাদের আটকাবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে।

হামাসের অভিযোগ, এসব অপরাধ ঘটানোর পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনো দৃষ্টি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এই বর্বরতার জন্য দায়ী।

শুধু আল-শিফা নয়, গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনী তার আগ্রাসন ও বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলি সেনারা ট্যাংক ও ড্রোন হামলা চালায় আল-শিফায়। ভেতরে বেসামরিক মানুষ থাকা অবস্থায় তারা গোলাবর্ষণ করে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ২৬ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে ১৫ জন দায়িত্বরত অবস্থায় প্রাণ হারান।

আবার ইসরায়েলি বাহিনী আল আকসা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে গতকাল হামলা চালায়। এতে দুজন সাংবাদিক নিহত হন। এই হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মিসরের রাজধানী কায়রোতে যুদ্ধবিরতির নতুন একটি আলোচনা গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। এতে কাতার ও মিসরীয় কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় আলোচনায় যোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। এ অবস্থায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। দেশের অন্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভ হয়েছে।

তেল আবিব, হাইফা, জেরুজালেমসহ নানা জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর সরকারের পদত্যাগসহ তার যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়। তারা অবিলম্বে হামাসের সঙ্গে জিম্মিমুক্তির বিষয়ে সমঝোতার আহ্বান জানায়। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের স্বজনরা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত