মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচন

এরদোয়ানকে থামাবেন ইমামোগ্লু!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৩ পিএম

তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বড় বড় শহরে ধরাশয়ী হয়েছে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)। রবিবার ভোটগ্রহণের পরদিন আজ ঘোষিত ফলে প্রধান দুটি শহর আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে সিএইচপি।

এই নির্বাচনের আগে বিশ্লেষকরা বলছিলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সিএইচপি নেতা একরেম ইমামোগ্লু আবারও ইস্তাম্বুলে জয়ী হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কর্তৃত্বের জন্য বিপজ্জনক হবে। ফল ঘোষণার পর দেখা গেল, সত্যিকার অর্থেই এরদোয়ান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন।

বর্তমানে তুরস্কের প্রধানতম শহর ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লু। আগামী দিনে তুর্কি রাজনীতিতে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) নেতা রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে বিকশিত বিরোধী শিবিরের কেন্দ্রীয় চরিত্র মনে করা হচ্ছে তাকে। এবারের নির্বাচনে ইস্তাম্বুলে তার জয়ের পাশাপাশি আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর আঙ্কারায়ও বিরোধীরা জয়লাভ করেছে; অর্থাৎ টানা দুবার প্রধান দুটি শহরসহ নানা জায়গায় এরদোয়ানপন্থিরা কোণঠাসা হলো।

জয়ের পর ইমামোগ্লু বলেন, ‘আমার প্রিয় ইস্তাম্বুলবাসী, আপনারা নতুন ভবিষ্যতের দুয়ার খুলেছেন। এখন থেকে নতুন এক তুর্কির যাত্রা শুরু হলো। আপনারা গণতন্ত্র, সমতা ও স্বাধীনতার দুয়ার খুলেছেন।’ তার জয়ের পর সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষ ছিল, তাই-ই থাকবে।’ এ সময় তারা এরদোয়ানকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছিলেন।

 একরেম ইমামোগ্লু

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হচ্ছিল, একরেম ইমামোগ্লই আগামী দিনে এরদোয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছেন। ইস্তাম্বুলে একে পার্টির প্রার্থীর পরাজয় এরদোয়ানের জন্যই অস্বস্তিকর। কারণ এই শহর থেকে নব্বইয়ের দশকে এরদোয়ানের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল। 
৫৩ বছর বয়সী সাবেক ব্যবসায়ী ইমামোগ্লুকে ভাবা হচ্ছে তুরস্কের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট। তিনি নিজের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সব সময়ই ইতিবাচক দাবি করে আসছেন।

ইমলামপন্থি রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরদোয়ানের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল। ২০০২ সালে তুরস্কের ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রে আসীন হওয়ার পর থেকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ককে নতুন করে আকার দিয়েছেন। কর্তৃত্ববাদ ও রক্ষণশীল নীতিই ছিল তার শাসনের কেন্দ্রে। পক্ষান্তরে ২০০৮ সালে রাজনীতিতে পদার্পণ করা ইমামোগ্লু বলছেন ধর্মনিরপেক্ষতার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্স ইন ওয়াশিংটন’-এর বিশ্লেষক ইউসুফ কান বলেন, ‘এই ফল ইমামোগ্লু এবং সিএইচপি দলকে তুর্কি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।’ 

সমালোচকরা বলে থাকেন, তুরস্কে এরদোয়ানের প্রশাসন দুই দশকে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত নিজের কবজায় নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইমামোগ্লুর উত্থানকে ঠেকাতেও এরদোয়ানের প্রশাসন সেই কৌশল ব্যবহার করেছে। ২০১৯ সালে একে পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করার পর তিনি নানা আইনি ঝামেলায় পড়েন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অপমান করার অভিযোগে আদালত তাকে আড়াই বছরের সাজা দেন। এই মামলা এখনো আপিল আদালতে ঝুলছে। গত বছর টেন্ডার জালিয়াতির একটি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

বিশ্লেষকরা বলেন, এসবের মাধ্যমে ইমামোগ্লুকে রুখতে চাইছে এরদোয়ানপন্থিরা। স্থানীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর সেই দিকেই ইঙ্গিত করলেন ইমামোগ্লু। তিনি বলেন, ‘এটি মেয়র নির্বাচনের থেকেও বেশি কিছু। এটি একটি প্রবণতাকে ইতিহাসের দিকে চালিত করছে। এটি ইতিহাসের সঙ্গে বজায় থাকলে, গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে এবং আইন ও বিচার ফিরে আসবে।’

ইমামোগ্লু ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে ব্যবসায় প্রশাসনের ওপর স্নাতক শেষ করেন। ওই বছরই এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের মেয়র হয়েছিলেন। আগামী দিনে ইমামোগ্লুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন। জরিপ প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলের প্রধান ওজির সেংকার বলেন, ‘এই নির্বাচন যদি কোনোভাবে বাতিল না হয়, তাহলে ২০২৮ সালে তিনি (ইমামোগ্লু) হবেন প্রেসিডেন্ট।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত