শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নতুন জন্মের অনুভূতি পেয়েছি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২২ এএম

শুটিংসেটে শর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে গিয়েছিল শারমিন আঁখির শরীরের ৩৫ শতাংশ। দুই মাসের বেশি সময় ছিলেন হাসপাতালে। বাসায় ফিরলেও ছিলেন গৃহবন্দি। সম্প্রতি অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের ‘কবি’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এক বছর পর নিজের চেনা জগতে ফিরলেন শারমিন আঁখি। কঠিন সময়, অভিনয় ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আঁখির মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

মঞ্চে ফিরেছেন, টেলিভিশন বা ভিজুয়াল মিডিয়ায় ফিরবেন কবে?

প্রায় ৪ বছর পর মঞ্চে ফেরা। শেষ কাজ করেছি ২০১৯-এ। এই মঞ্চই আমাকে মাতিয়ে তোলে। মঞ্চ দিয়ে কাজে ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না, যে মঞ্চ দিয়ে আমার শিল্পের চর্চা শুরু, সেই মঞ্চেই দ্বিতীয় শিল্পী জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে পেরেছি এটা ভাবতেই একটা নতুন জন্মের অনুভূতি পাই। আরও কিছুদিন মন দিয়ে মঞ্চটাই করে যেতে চাই। ভিজুয়ালে কাজ শুরু করে দিলে তো মঞ্চে আর ওই ভাবে সময় দিতে পারব না। তাই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছি। তবে আশা রাখছি আগামী বছরের শুরু থেকে পুরোদমে কাজে নিয়মিত হতে পারব।

সেরে উঠেছেন সম্পূর্ণভাবে? নাকি এখনো কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা থাকলে সেসব কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে?

আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি, শারীরিক অনেক দুর্বলতা আছে এখনো, অনেক কিছুই মেনে চলতে হচ্ছে তারপরও ভালো থাকার চেষ্টা করছি। যেই দুর্বিষহ স্মৃতি আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতি মুহূর্তে তা ভুলতে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছি, এখনো প্রতিদিন নিয়ম করে তিন বেলা ওষুধ খেতে হচ্ছে, হাতের স্কিন রিকভার হতে আরেকটু সময় লাগবে, তাই এখনো নিয়মিত ওষুধ লাগাচ্ছি।

কঠিন এই সময়ে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে গেছেন?

যেদিন হাসপাতালে অ্যাডমিট হয়েছিলাম আমার দুই হাত-পা ডিপ বার্ন আর আমার মুখ সুপার ফেসিয়াল বার্ন, সঙ্গে শ্বাসনালিও এফেক্টেড। ডক্টর নিশ্চয়তা দিতে পারছিলেন না আমি বাঁচব কি না। প্রতি রাতে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি জ্বরের ঘোরে শুধু ফ্লাশব্যাকের মতো ফেলে আসা স্মৃতিগুলো চোখের সামনে আসত। মনে হতো মানুষ তার অন্তিম মুহূর্তে এভাবেই বুঝি ভালো স্মৃতিগুলো দেখতে দেখতে চলে যায়। কিন্তু এই ভালো  স্মৃতিগুলোই আমাকে ফিরে আসতে শক্তি জুগিয়েছে। আইসিইউতে সারা রাত আশপাশের পেশেন্টদের আর্তচিৎকারে কেঁপে কেঁপে উঠত শরীর আর মন। ভারী হয়ে উঠত বাতাস। প্রতিরাতেই কেউ না কেউ এই যন্ত্রণার কাছে হার মেনে নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। প্রতিদিন সকালে কোনো না কোনো বেড খালি দেখে বুঝে নিতাম আরেকজন পরাজিত হলো। অসহ্য যন্ত্রণায় দিন-রাত কাতরেছি, ধৈর্যশক্তির অধিক ধৈর্য ধারণ করে সব যন্ত্রণা গিলেছি  আর একটা কথাই জপেছি মনে মনে, মনোবল ভাঙা যাবে না, শেষ বিন্দু পর্যন্ত চেষ্টা করব।

আপনার পাশে সহকর্মীদের পেয়েছিলেন কি না?

পেয়েছি আবার পাইনি। এক বছরে এটা বুঝেছি যেই মানুষগুলো আমার পাশে ছিল তারা এভাবে পাশে না থাকলে আমি হয়তো এ পথ পাড়ি দিতে পারতাম না, হয়তো আমার আর ঘুরে দাঁড়ানো হতো না। তাই তাদের ধন্যবাদ দিয়েও শেষ হবে না। আমার পরিবার, আমার বন্ধুরা, বিশেষ করে এই অঙ্গনের আমার সব কলিগ- সব শিল্পী এবং আমার সংগঠন সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।

সেপ্টেম্বর ১৭ কী? এটা নিয়ে কিছু বলুন?

এটা মূলত সাইফাই জনরার একটা কাজ। আমাদের দেশে সায়েন্স ফিকশন গল্প কম হয়। তাই এই কাজটা দেখে দর্শকরাও একটা নতুন টেস্ট পাবেন। বিজ্ঞান এবং জীবন দর্শনের মেটাফর বলতে পারেন ‘সেপ্টেম্বর ১৭’ নাটকটিকে। আমি অসুস্থ হওয়ার আগে এটাই আমার করা শেষ কাজ ছিল আর সুস্থ হয়ে ওঠার পর প্রথম কাজ হিসেবে রিলিজ হবে এই ঈদে।

জীবন, বেঁচে থাকা এসব নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা আপনাকে আচ্ছন্ন করে?

নেতিবাচক সব দৃষ্টিভঙ্গি ভুলে সব সময় ইতিবাচক থাকতে হবে। আমি সব সময় সব কিছু নিয়েই  ইতিবাচক। জীবনকে নতুন করে দেখতে শিখেছি, মানুষকে নতুন করে জানতে শিখেছি। জীবন সত্যি সুন্দর আর মানুষগুলো আরও সুন্দর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত