শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিক্রি হয় পাঞ্জাবির ৮০ ভাগ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০৮ এএম

ঈদে পুরুষদের জন্য অনেকটা অত্যাবশ্যক পোশাক পাঞ্জাবি। ছোট-বড় কিংবা ধনী-গরিব সবাই নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজে শরিক হন। এ কারণে ঈদের সময় পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। বিপণিবিতান ও পাইকারি মার্কেটগুলোতে জমজমাট থাকে পাঞ্জাবির বেচাকেনা। বিশেষ করে রোজার ঈদ পাঞ্জাবি বিক্রির সবচেয়ে বড় মৌসুম। ব্যবসায়ীদের মতে, সারা বছর যত পাঞ্জাবি বিক্রি হয়, তার ৮০ শতাংশই হয় রোজার ঈদে। এর বাইরে কোরবানির ঈদ ও বৈশাখে কিছু পাঞ্জাবি বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা।

এ বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যদিও বছরে সারা দেশে পাঞ্জাবির চাহিদা কত? এর কোনো পরিসংখ্যান নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি অনেক কম।

মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় পাঞ্জাবির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। 

ব্যবসায়ীরা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রতিবছর শবেবরাতের পর থেকে ১০ রমজানের আগেই ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মালামাল শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার ২০ রমজান পার হয়ে গেলেও এখনো দোকানের অর্ধেক মাত্র বিক্রি হয়েছে। ডলারসংকটসহ আমদানি জটিলতায় গতবারের থেকে বেচাকেনার অবস্থা খারাপ। এখন যেগুলো বেচাকেনা হয়েছে, এর বেশিরভাগ আবার বাকিতে। সে টাকা তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ কেন্দ্র করে পাইকারি মার্কেটগুলোতে এবারও বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি উঠেছে। বিশেষ করে সুতি, কটন, সিল্ক ও কাজ করা পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হয়। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু হয় পাঞ্জাবির দাম। সারা দেশের মার্কেটগুলোর চাহিদা মেটানোর জন্য রোজার আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে পাঞ্জাবি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্রেতারা এই সদরঘাটের পাইকারি পাঞ্জাবি কিনে খুচরা বাজরে বিক্রি করে। ঈদ কেন্দ্র করে সারা বছরে ১৫ থেকে ২০ ভাগ বিক্রি চাহিদা থাকলেও ঈদে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে পাঞ্জাবি। গার্মেন্টসগুলোও তাদের চাহিদামতো পাঞ্জাবি প্রস্তুত করে।

রাজধানীর সদরঘাট পাঞ্জাবির পাইকারি মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে, মার্কেটগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি সাজিয়ে রেখেছে। তবে বেশিরভাগ মার্কেটে তেমনটা বেচাকেনা নেই। এখনো দোকানগুলোতে পাঞ্জাবিতে ভর্তি। কিছু কিছু দোকানে অলস সময় পার করতে দেখা যায় দোকানিদের।

সদরঘাটের শরীফ গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখানে পাইকারি বেচাকেনা মূলত শবেবরাতের পর থেকে শুরু হয়। ১০ রমজান পর্যন্ত পুরোদমে চলে বেচাকেনা। এই ঈদে ১০ কোটি টাকার পাঞ্জাবির বেচাকেনার টার্গেট ছিল। কিন্তু হয়েছে ৫ কোটির মতো। আমার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার ৫০ ভাগ বেচাকেনা হয়েছে। এখন রোজা চলে যাচ্ছে কিন্তু মালামাল ঠিকই দোকানে পড়ে রয়েছে।’

হৃদয় গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমন বলেন, ‘পাঞ্জাবির বাজার গত বছরের থেকে এ বছর কম। আমাদের ছয় লাখ পিছ পাঞ্জাবি প্রস্তুত ছিল, কিন্তু বেচাকেনা হয়েছে তিন লাখের মতো। এখন তো আর বেচাকেনা নেই। যে মাল বাকিতে বিক্রি করেছি সেগুলোর টাকা ওঠানোর জন্য যেতে হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।’

জুবায়ের পাঞ্জাবির দোকানের ম্যানেজার মো. মাছুম বলেন, ‘গত বছরও ঈদের বেচাকেনার অবস্থা খুব ভালো ছিল। আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেটি ১০ রমজানের আগেই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার বাজারের অবস্থা খুব খারাপ। গতবারের মতো এবার বেচাকেনা নেই বললেই চলে।’

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও শরিফ মার্কেটের চারতলায় আলাউদ্দীন গার্মেন্টসে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। এই গার্মেন্টসের এক বিক্রেতা মো. আলাউদ্দীন বলেন, এখনো দোকানে অনেক মালামাল রয়ে গেছে। দোকানের মালামাল ছাড়াও কারখানায় অনেক পাঞ্জাবি এখনো স্টকে জমা আছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজনের কাছে পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি। অথচ গত বছরও এ সময় দোকানের সব মালামালে বেচাকেনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন অর্ধেক মালও বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাইকারি মার্কেটগুলোতে পাঞ্জাবি বেচাকেনার অবস্থা এ বছর খুব খারাপ। আগের মতো বেচাকেনা নেই বললেই চলে। এখন মালিকরা কীভাবে কর্মচারীদের বেতন বোনাস দেবেন, সেজন্যই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। তবে সামনে বেচাকেনা বাড়লে কিছুটা লোকসান সামাল দিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত