বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় শেষ দশকেই

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৫ এএম

চলছে রমজানের শেষ দশক। পবিত্র এই মাসের শেষ দশ দিনই মূলত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দশকে এমন কিছু উপলক্ষ রয়েছে যেগুলো যথাযথ উদযাপন করতে পারলে মুমিনের সাফল্য সুনিশ্চিত। শেষ দশকের সূচনা হয়েছে ইতেকাফের মাধ্যমে। রমজানের পুরোপুরি সওগাত লাভের জন্য ইতেকাফের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র লাইলাতুল কদর এই দশকেরই যেকোনো বিজোড় রাতে। এই রাতের কারণেই পুরো রমজান তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) রমজানের তৃতীয় দশকে এমন কঠোর পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না।’ (সহিহ মুসলিম) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে দশ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছেন সে বছর বিশ দিন ইতেকাফ করেন।’ (সহিহ বোখারি)

জয়নব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, ‘রমজানের যখন দশ দিন বাকি থাকত তখন রাসুলুল্লাহর (সা.) পরিবারের কেউ নামাজে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাকে তিনি নামাজে দাঁড় না করিয়ে ছাড়তেন না।’ (তিরমিজি) নবীজি রমজানের শেষ দশকে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন।

রমজানের শেষ দশকে জাহান্নাম থেকে বেশি বেশি মুক্তি কামনা করার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি এই দশকে মুমিনের স্থায়ী আবাসস্থল জান্নাত প্রার্থনার প্রতিও বিশেষ তাগিদ করা হয়েছে। মূলত শেষ দশকের সমাপ্তির সঙ্গেই রোজার পূর্ণতা নির্ভর করে। এ সময়ই নির্ণীত হয় রোজার কল্যাণ ও মঙ্গলকে কতটুকু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সফল ও দুর্ভাগা চিহ্নিত হয়ে যায় এ দশকে এসে। যারা রমজানের সওগাত পুরোপুরি হাসিল করতে চায় তাদের শেষ দশকের ইবাদত ও উপলক্ষগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। এই দশকেই নিশ্চিত করতে হবে রমজানের প্রাপ্তি।

এজন্য শেষ দশকে যথাসম্ভব বেশি ইবাদত করা চাই। বিশেষত শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে রমজানের অন্যান্য রাতের তুলনায় বেশি বেশি ইবাদত, নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল ও কোরআন তিলাওয়াত করা প্রয়োজন। অন্তত এশা ও ফজরের নামাজ যদি জামাতের সঙ্গে আদায় করা যায়, তবু সারা রাত নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।’ (সহিহ মুসলিম)

রমজানে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। এ ছাড়া প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমল। আট রাকাত না পাড়লে চার রাকাত। তাও সম্ভব না হলে অন্তত দুই রাকাত তাহাজ্জুদ যেন বাদ না যায়। পাশাপাশি এই দশকে বেশি বেশি দোয়া করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই মাসে প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর রহমতের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে। কখন যে দোয়া কবুল হয়ে যাবে কেউ বলতে পারে না। এই দশকে দান-সদকাও বেশি বেশি করতে হবে। সাধারণত এ সময়েই সদকাতুল ফিতর আদায় করা হয়। অনেকে এ সময় জাকাতও আদায় করে থাকেন। মূলত এই মাসে এক টাকা দান করলে ৭০ টাকা দানের সওয়াব পাওয়া যায়। এজন্য দানের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

লেখক : আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত