রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৯ এপ্রিল ছুটি মিলছে না

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৬ এএম

ঈদুল ফিতরের আগে ৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ছুটি মিলছে না। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ওইদিন ছুটির সুপারিশ করলেও তা নাকচ করে দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিধবাভাতা পাওয়ার শর্ত শিথিল এবং আমদানি ও রপ্তানি আইন ২০০৪-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও তিনটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেগুলো গত বছরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদে বিল পাস না হওয়ায় নিয়মরক্ষার জন্য আবারও মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের ৯ এপ্রিল ছুটি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বলেছে, এমনিতেই এবার বেশ অনেক দিন ছুটি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল ছুটি দেওয়া হলে তা দীর্ঘ হয়ে যাবে। এতে কাজে স্থবিরতা নামতে পারে। তবে যারা দূরে ঈদ করতে যাবেন তারা তো চাইলে ছুটি নিতে পারেন। তাদের সেই অধিকার আছে।’

এখন ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ বা ১১ এপ্রিল দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে সরকার রমজান ৩০ দিন ও ঈদুল ফিতর ১১ এপ্রিল হচ্ছে ধরে আগামী ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল (বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে। এরপর ১৩ এপ্রিল (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৪ এপ্রিল (রবিবার) নববর্ষের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে ঈদের আগে ৭ এপ্রিল (রবিবার) শবেকদরের ছুটি রয়েছে। শবেকদরের ছুটির পর ৮ ও ৯ এপ্রিল (সোম ও মঙ্গলবার) অফিস খোলা। ১১ এপ্রিল ঈদ হলে বাড়ি যেতে মাত্র এক দিন (১০ এপ্রিল) সময় পাওয়া যাবে, তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৯ এপ্রিলও ছুটি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রবিবার সচিবালয়ে প্রথম বৈঠকে মন্ত্রিসভা কমিটি এ সুপারিশ করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ক্যালেন্ডারে আমাদের যেভাবে ছুটি দেওয়া আছে, ওইভাবেই ছুটিটা থাকবে। ৮ ও ৯ এপ্রিল অফিস খোলা থাকবে। ওখানে (মন্ত্রিসভার বৈঠক) আলোচনা হয়েছিল। বিস্তারিত আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তই হয়েছে।’

মাহবুব হোসেন আরও বলেন, ‘এবার দেখা যাচ্ছে যে, রমজান মাসের আগে দুটি মাসে ২৯ দিন ছিল। সাধারণত পরপর তিনটি মাস ২৯ দিন হয় না। এটা হলো সাধারণ বিষয় এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের যে রিপোর্ট, সেটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এ বছরের রমজান আমাদের ৩০ দিনে হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐচ্ছিক ছুটির একটা ব্যবস্থা আছে। যারা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করবেন, তারা তো নিতেই পারবেন। এটার জন্য আলাদা নির্দেশ দেওয়ার দরকার নেই। এটা আমাদের ছুটি বিধিতেই আছে। প্রতি বছর আমরা যখন ক্যালেন্ডারটা করি, সেই ক্যালেন্ডারটির নিচে লেখা থাকে ঐচ্ছিক ছুটির কথা।’

বিধবাভাতা পাওয়ার শর্ত শিথিল হচ্ছে : বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা পাওয়ার বিদ্যমান শর্ত কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের নারীদের মধ্যে যাদের বছরে আয় ১৫ হাজার টাকার নিচে, তারা এ ভাতার সুযোগ পাবেন। এতদিন ১২ হাজার টাকার নিচে হলে এই ভাতা পাওয়া যেত। গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৪’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তাতে ওই শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

বিধবাভাতার আওতায় বর্তমানে সারা দেশে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার নারীকে মাসে ৫৫০ টাকা করে দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগের নীতিমালা অনুযায়ী এই ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বলা ছিল, তার ব্যক্তিগত বার্ষিক আয় ১২ হাজার টাকার নিচে হতে হবে। এখন ১৫ হাজার টাকার কম যাদের আয়, তারা এর আওতায় আসতে পারবেন। তবে ভাতার পরিমাণ এখনকার মতোই (মাসে ৫৫০ টাকা) থাকছে।

তিনি জানান, এখন এ ভাতার টাকা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জি টু পি (সরকার থেকে সরাসরি ব্যক্তি) পদ্ধতিতে দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর অনলাইনে আবেদন ও বাছাইয়ের বিষয়টিও প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে আমদানি ও রপ্তানি আইন ২০০৪-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট ১৯৫০-এর আলোকে করা হয়েছে। ওই অ্যাক্টে শুধু পণ্যের কথা ছিল। প্রস্তাবিত আইনে তার সঙ্গে সেবাও যুক্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আরও তিনটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো গত বছরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদে বিল পাস না হওয়ায় নিয়মরক্ষার জন্য আবারও মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইন তিনটি হলো পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন ২০২৪, বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (স্থাবর সম্পত্তি অর্জন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২৪ এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত