শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্পেশাল লঞ্চ নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৩ এএম

রাজধানী থেকে বরিশালে ঈদে ঘরমুখো লঞ্চযাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তি লাঘবে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ বছর যাত্রীসেবায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ২০ অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করবে। বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসেবা দেওয়ার জন্য ৩৬টি একতলা লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব লঞ্চ যাত্রীবোঝাই হলেই ঘাট ত্যাগ করতে হবে বলে নিশ্চিত করেছে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ অফিস। তবে প্রতি বছরের মতো এবার লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস চালু হয়। কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণে সড়কপথেও এবার যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে স্পেশাল সার্ভিস এ বছর থাকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কর্তৃপক্ষের মধ্যে। মালিকপক্ষও এ বিষয়ে এখনো বিআইডব্লিউটিএকে কিছু জানায়নি।

এদিকে ঘরমুখো মানুষের জন্য এ রুটে চলাচলকারী বেসরকারি লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে লঞ্চের টিকিট বিক্রির প্রায় এক সপ্তাহ হলেও যাত্রীদের দেখা নেই টিকিট কাউন্টারে। যাত্রীরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চের টিকিটের তেমন চাহিদা নেই। তবে রোটেশনের কারণে ট্রিপে লঞ্চ কম থাকায় ছুটির দিনগুলোর আগে যাত্রীচাপ থাকে ঢাকা-বরিশাল রুটে। তখন কালোবাজার ছাড়া টিকিট পাওয়া দায়। তবে কালোবাজারি রোধসহ সড়ক ও নৌপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে ও নৌ-পুলিশ।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, ঈদের আগে ও পরে নদীতে বাল্কহেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, নদীতে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর টহল নিশ্চিত করা, মেরিন ক্যাডেট, স্কাউট, গার্লস গাইডের সদস্যরা যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামাসহ সার্বিক সহযোগিতা করবেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নৌবন্দর এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী বয়া আছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে লঞ্চ প্রস্তুত রাখা থাকবে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী লঞ্চে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে। এ রুটে সরাসরি যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকবে সুরভীর তিনটি, পারাবতের চারটি, এমভি অ্যাডভেঞ্চারের দুটি, কুয়াকাটার একটি, মানামীর একটি, প্রিন্স আওলাদের একটি, সুন্দরবন দুটি ও কীর্তনখোলার দুটি লঞ্চ।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক ও নদীবন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্তে ঈদ উপলক্ষে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। এসব লঞ্চে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বাঁধা থাকবে না। লঞ্চে যাত্রীবোঝাই হলেই ঘাট ত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া বরিশাল জেলার মধ্যে ৩৬টি একতলা ও দোতলাবিশিষ্ট লঞ্চসহ এবার ৫৬টি লঞ্চ চলাচল করবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত