মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২০ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ অনিশ্চিত

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৫ এএম

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে পাম্প হাউজের তিনটি পাম্পই অকেজো হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সেচ সরবরাহ। এতে চলতি বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়া চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহ ও মাগুরা চার জেলার ১৩টি উপজেলার সেচ প্রকল্পাধীন এলাকার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেই সঙ্গে এ মৌসুমে কাক্সিক্ষত প্রায় দেড় লাখ টন ধান উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানিশূন্যতায় মাঠের পর মাঠ ফেটে চৌচির।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এসব কৃষক পরিবার জীবনধারণে এক অনিশ্চিত সংকটের মুখে দাঁড়ানোর শঙ্কায় দিন গুনছে এসব এলাকার চাষি পরিবার। সেচ প্রকল্প মেরামত ও বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সমাধানে প্রকল্প গ্রহণের কথা জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খাদ্যশস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের পরামর্শ কৃষি বিভাগের।

সেচ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে চাষিরা নিজেদের ভোগান্তি ও দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে অবিলম্বে সেচ সরবরাহ চালুর দাবি করেন। মিরপুর উপজেলার কবরবাড়ি গ্রামের খালেক মন্ডল (৭০) বলেন, ‘এই দ্যাকেন মাঠে ধান জর্মাতে পারতিসনি, ধানের জমি সব পইরি পইরি আচে, চারা আতালিই (বীজতলা) র’চে, একন আমরা পানি চাচ্চি, পানি আমার দিক, আল্লা দেচ্চে না, এই বান্দার হাতে যেটুক আচে, সিডা দিলিও তো আমরা বাঁচি।’

সদর উপজেলার জগতি গ্রামের চাষি বাসের আলীর (৪৫) অভিযোগ, ‘আপনেরাই দ্যাকেন, এই যে মাঠের পর মাঠ পইরি আচে, পানি নাই, বোরিংয়ে পানি উটতেচ না, যে দুই একটাই উঠচে সিডাইও হাফ পরিমাণ পানি উঠতেচে।’

চাষি রাবুল সেখ (৫০) বলেন, ‘পানিবিহীন মাঠে কোনো ফসলই হচ্চে না, উরা (জিকে কর্তৃপক্ষ) আগে যদি বুুইলতি যে পানি দিতি পারবনানে, তালি আমরা আগেই অন্য বেবেস্থা (ব্যবস্থা) কইরি নিতানে (নেওয়া)।’

বাড়ুইপাড়ার চাষি গৃহকর্ত্রী হাসিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘পানির সেমেস্যা (সমস্যা) কী এট্টু আট্টিক হয়চ নাকি? এই যে আমরা গরিব মানুষ ৫ হাজার ট্যাকা খরচ কইরি চারা দিছিলাম, পানি বিনি সে চারা লাগাতি না পাইরি একন কাইটি আনি গরুক খাওয়াচ্চি, একন আমরা এই ছাওয়ালপাল লিয়ে খায়ে বাঁচপো সেই ধানডাও একন হবিনা, কী খাবো তালি? বোরিংয়েও পানি ওটতেচ না, টিউকলেও পানি ফেল করেচে, আমারে বাঁচাই দায় হয়ে গেচে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি কুষ্টিয়ার উপপরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, এ বছর জিকে প্রকল্পের সেচ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেচ এলাকাধীন ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার সেচ সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়াসহ চার জেলার ১৩টি উপজেলার সেচ সরবরাহ আওতাধীন ৯৫ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এ বছর উল্লিখিত ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করতে চাইলে চাষিদেরই অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, ‘দেশের বৃহৎ এই সেচ প্রকল্পটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে চালু করতে প্রকল্প গ্রহণ ও প্ল্যানিং কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। এই উন্নয়ন প্রকল্পটির যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সেচ সংকট থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত