বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাংবাদিক নিপীড়ন বাড়ছে

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

দেশে সাংবাদিক নিপীড়ন চলছেই। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৮১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে গত বছর, ২০২৩ সালে, প্রথম ছয় মাসে ১১৯ জন সাংবাদিক এই ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এই বছর অর্ধেক সময়েই সংখ্যাটা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছে গেছে। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আসক। তারা বলেছে, গত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, সীমান্তে হত্যা, সাংবাদিক নিপীড়নসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে।

আসকের প্রতিবেদনে দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। শেরপুরের নকলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানাকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের যে অনাকাক্সিক্ষত আচরণ বিদ্যমান রয়েছে, এ ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’

তবে মঙ্গলবার আলোচ্য ইউএনওর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে তথ্য কমিশন। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা না করে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করায় শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তথ্য কমিশন। সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের।

রানার ঘটনাটি ছাড়াও আরও বেশ কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা উঠে এসেছে আসকের প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে গত ১৪ মার্চ লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পাঁচজন সাংবাদিকের লাঞ্ছিত হওয়া, ময়মনসিংহ নগরীর সমস্যা নিয়ে পোস্টার এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কবি ও গ্রাফিক ডিজাইনার শামীম আশরাফকে গ্রেপ্তার, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সাংবাদিকের মারধরের শিকার হওয়া, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১৩ জন সাংবাদিকের বাধার সম্মুখীন হওয়া উল্লেখযোগ্য। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের কারণে নিপীড়িত হওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তথাপি এই নিপীড়ন চলছেই। ক্ষমতাশালী সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা সাংবাদিকদের নিপীড়ন উদ্বেগজনক। এর পেছনে আছে সরকারি নীতিও।

আমরা দেখতে পাই নানা মহল থেকে বারংবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাংবাদিকদের হয়রানি না করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বরং তথ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। মার্চের ১৮ তারিখ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ঝুঁকির মুখে না পড়ে। তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পূর্ণ স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম তাদের কাজ করবে।

কর্র্তৃপক্ষকে, সরকারকে প্রশ্ন করবে, সমালোচনা করবে, এ রকম একটি সমাজব্যবস্থা আমরা তৈরি করতে চাই।’ তবে, আসকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে, সরকারের সেই দায়িত্ব বা প্রতিশ্রুতির কোনোটাই ঠিকভাবে পালন হচ্ছে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত