রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

টানা চার মাস রপ্তানি ৫ বিলিয়নের ওপরে

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৯ এএম

দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর প্রধান দুই খাত রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে গত কয়েক মাসে। তবে সর্বশেষ মার্চে প্রবাসী আয়ে পিছুটান দিলেও রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির ধারা ঊর্ধ্বমুখীই আছে। সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৫১০ কোটি বা ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা চার মাস রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অব্যাহত আছে। গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চে দেশের রপ্তানি পৌঁছেছে ৫১০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য ৫১৯ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হয়। সে তুলনায়, মার্চে কিছুটা কমেছে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমেছে। এর ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ৩ হাজার ৭২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৭৯ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরে সরকার ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। তবে মার্চ শেষে পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ে ধস নেমেছিল। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি করে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ (৩.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা আগের বছরের অক্টোবরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ছিল ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অক্টোবরের রপ্তানি আয় ছিল ২৬ মাস পর সবচেয়ে কম। ২০২১ সালের আগস্টে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৩৮ কোটি ৩০ লাখ (৩.৩৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিলেন বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা।

তবে পরের মাস নভেম্বরে রপ্তানি আয় বেশ খানিকটা বাড়ে; আসে ৪৭৮ কোটি ৪৮ লাখ (৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কয়েক দিন বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার পরও নভেম্বরে বেশি আয় দেশে এসেছিল। ডিসেম্বর মাসে এক লাফে বেড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়; আসে ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা। এর পর থেকে প্রতি মাসেই রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হচ্ছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয় ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।

জুলাই-মার্চ সময়ে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প থেকে এসেছে ৩৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ২১ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে দশমিক ৯৬ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ১৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এই ৯ মাসে পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। ইপিবির হিসাব বলছে, জুলাই-মার্চ এই ৯ মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ দশমিক ৪১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত