রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৩ সেকেন্ডে চুরির মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন!

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪০ এএম

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখে নিজেদের মধ্যে। এসব চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন কম দামে কিনে আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর পরিবর্তন করে ফেলা হতো। আর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনে মাত্র ৩-৭ সেকেন্ড সময় লাগে চক্রের সদস্যদের। পরে সেগুলো বিভিন্ন দোকানের মাধ্যমে আবারও বিক্রি হয়ে চলে যায় সাধারণ মানুষের হাতে। এভাবে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলায় চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পাল্টে বিক্রি করে আসা আলাদা ৪টি চক্রের ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাব-৩ সদস্যরা। এসব চক্র এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করেছে।

গত সোমবার রাতে ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকার গুলিস্তান, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৪২টি স্মার্ট মোবাইল ফোন, ৩৪১টি বাটন মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ ভুয়া আইএমইআই স্টিকার, ১টি হিটগান, ইলেকট্রনিক সেন্সর ডিভাইস, আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ৬টি চাকু, ১টি ল্যাপটপ, ১টি এলসিডি মনিটর এবং ১১ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ‘আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে অবৈধ মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ের তৎপরতা বেড়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ৫-৬ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। তারা মোবাইল চুরি, ছিনতাই ও আইএমইআই পরিবর্তন চক্রের অন্যতম সদস্য।’

চক্রগুলোর সদস্যরা চোরাই মোবাইল ফোনগুলো বিক্রির জন্য বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করে উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান, রবিন ও হাফিজুর রহমান মোবাইল ফোন ছিনতাই করে চক্রের হোতা রাজু, সুজন, আবুল মাতুব্বরসহ অন্যদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে দেয়। তারা অন্যান্য ছিনতাইকারীর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন স্বল্পমূল্যে কিনে নেয়। গ্রেপ্তার দেলোয়ার এবং আবুল মাতুব্বর মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর। তারা ৩-৭ সেকেন্ডের মধ্যেই ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে।

তিনি আরও বলেন, দেলোয়ারের চক্রটি গুলিস্তান এলাকায় সক্রিয়। আরিফুলের চক্র নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, আবুল মাতুব্বরের চক্র মোহাম্মদপুর এলাকায় এবং ইমনের চক্রটি খিলগাঁও এলাকায় সক্রিয়। তারা আইএমইআই পরিবর্তনের পাশাপাশি কখনো কখনো মোবাইল ফোনের কেসিং ও ডিসপ্লেও পরিবর্তন করে ফেলে। এসব ফোনের ব্র্যান্ড এবং মানভেদে দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভালো মানের মোবাইল ফোনগুলো তারা মোবাইল ফোন মেরামতের দোকানে বিক্রি করে। আর অন্য মোবাইল ফোনগুলো বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমাণ বিক্রি করে আসছিল।

গ্রেপ্তার দেলোয়ারের সহযোগী রাজু এবং জিহাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আরিফুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলা রয়েছে। মোনায়েম, রফিক ও আরিফুল আগেও র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবারও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত