মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পরিবর্তন হচ্ছে র‌্যাম্পের নকশা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৮ এএম

গাছ না কেটে এবং দ্বিতল সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট না করে টাইগারপাস মোড়ে র‌্যাম্প (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার পথ) নির্মাণের জন্য নতুন করে ডিজাইন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। আন্দোলনরত নাগরিক সমাজের পক্ষে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন গতকাল মঙ্গলবার সিডিএ চেয়াম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘আমরা কোনো গাছ কাটছি না। এগুলো ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। তবে এখানে র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য আমরা নতুন করে ডিজাইন করব এবং সেই ডিজাইনের আলোকে নাগরিক সমাজের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নগরীর বাকলিয়া, আন্দরকিল্লা, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গীবাজার, সদরঘাট ও শাহ আমানত সেতু দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আসা গাড়িগুলো স্টেশন রোড দিয়ে পলোগ্রাউন্ড হয়ে টাইগারপাস মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হওয়ার কথা। আর তা নিশ্চিত করতে টাইগারপাস মোড়ে একটি র‌্যাম্প নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় নির্মিত হচ্ছে ১৫টি র‌্যাম্প (ওঠানামার রাস্তা)। এই ১৫টি র‌্যাম্পের একটি হলো টাইগারপাস দিয়ে ওঠার র‌্যাম্পটি। আর এটি নির্মাণ করতে সিডিএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৬টি গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। এই ৪৬টি গাছের মধ্যে শতবর্ষী বৃক্ষও রয়েছে কয়েকটি। কিন্তু এ গাছ কেটে র‌্যাম্পটি নির্মিত হলে

প্রাকৃতিকভাবে দ্বিতল এ সড়কটি, যা চট্টগ্রামের একটি আইকনিক সড়ক তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তা রুখতে আবারও সংঘবদ্ধ চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ।

গতকাল দুপুরে সিডিএ চেয়ারম্যান, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। এ সময় ড. অনুপম সেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মিত হলে সবুজের আবহে ঘেরা এলাকাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন। সিডিএর সম্মেলনকক্ষে সিডিএ চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে ড. অনুপম বলেন, ‘টাইগারপাসে কোনো র‌্যাম্প নয়। নগরীর অন্য কোথাও র‌্যাম্প নির্মাণ করুন। টাইগারপাস ও সিডিএ চট্টগ্রামের প্রাণের জায়গা।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিডিএ চেয়ারম্যান তাকে নকশা পরিবর্তন করা হবে বলে জানান।

ডিজাইনে কী ছিল?

গতকাল দুপুরে র‌্যাম্প নির্মাণের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতল সড়কের যে স্থান দিয়ে র‌্যাম্পটি উঠবে, সে স্থান থেকে টাইগারপাস মোড়ের (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যেখানে যুক্ত হবে) দূরত্ব ৪০০ মিটার। এই ৪০০ মিটার র‌্যাম্প নির্মাণ করতে ৪৬টি গাছ কাটা পড়বে। একই সঙ্গে এই এলাকার ল্যান্ডস্ক্যাপ নষ্ট হবে সন্দেহ নেই। ২০ ফুট চওড়া টি-আকৃতির (মাঝখানের পিলার থেকে উভয়পাশে র‌্যাম্পটি প্রসারিত হবে) র‌্যাম্পটি নির্মাণ করতে ১৫টি পিলার বসাতে হবে। একই সঙ্গে বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং গাড়ির চাপে এই এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হবে।

বিকল্প কী?

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট আশিক ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গতকাল দুপুর ১২টায় র‌্যাম্প নির্মাণের সাইট ভিজিট করেছি। গাছ রক্ষা করে র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য টি-আকৃতির র‌্যাম্পের পরিবর্তে এলবো (একপাশে পিলার থেকে রাস্তার কার্নিশ বের করে দেওয়া) আকৃতির র‌্যাম্প নির্মাণ করলে গাছের দিকে কম যাবে। একই সঙ্গে র‌্যাম্পের চওড়া ২০ ফুটের চেয়ে কমিয়ে ১৫ ফুটে নিয়ে আসা যেতে পারে।’

কিন্তু দেশ রূপান্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যে স্থানে র‌্যাম্পটি নির্মাণের পরিকল্পনা সিডিএ করেছে এর পশ্চিম দিকে রেলওয়ের একটি রোড রয়েছে, যা রেলওয়ে পাবলিক স্কুল থেকে পলোগ্রাউন্ড হাই স্কুলের সামনে দিয়ে পলোগ্রাউন্ড কলোনি পর্যন্ত বিস্তৃত। আর সেই রোড দিয়ে টাইগারপাস মোড় পর্যন্ত যাওয়া যায়। মূলত এ রোডটি দ্বিতল সড়কের সমান্তরালে একটি রোড। এ রোডের কারণে এই এলাকায় তিনটি লেয়ারে তিনটি রোড দেখা যায়। র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য এ রোডটি ব্যবহার করা যায় কি না, প্রস্তাবনা দিলে স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, ‘এটি তো খুব ভালো প্রস্তাব। এ প্রস্তাবনার আলোকে র‌্যাম্প নির্মাণ করা হলে সিআরবি ও টাইগারপাস এলাকার কোনো গাছ কাটা পড়ে না এবং দ্বিতল সড়কের আবহও নষ্ট হয় না।’ তিনি আরও বলেন, যেহেতু র‌্যাম্পে টার্নের বিষয় আছে, তাই হয়তো রাস্তা ক্রস করতে হবে। তবে ওই প্রান্তে খালি জায়গা রয়েছে বলে সমস্যা হবে না।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের কাছে এ প্রস্তাবনা দিলে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবনাটি বিবেচনাযোগ্য। তবে এতে নিচের তিনটি বড় গাছ কাটা পড়তে পারে।’

তবে সরেজমিন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, নিচের তিনটি গাছ যদি ফুটপাত ও র‌্যাম্পের ডিভাইডারের মধ্যে রাখা যায়, তাহলে আর সেই গাছগুলোও কাটা পড়ে না। এতে টাইগারপাস এলাকার আবহও নষ্ট হবে না। এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে থেকে র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিতে হবে।

আগামী মাসের শেষের দিকে যান চলাচলের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে। প্রধান অংশের কাজের মধ্যে শুধু টাইগারপাস মোড় থেকে লালখান বাজার অংশের কাজ কিছু বাকি রয়েছে। গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণ হওয়ায় মুরাদপুর থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার হয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে নগরবাসী পতেঙ্গা চলে যেতে পারবে। বিভিন্ন স্থানে ওঠানামার জন্য র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে, যা আগামী বছর পর্যন্ত চলবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত