মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘সার পে মারনেওয়ালা’ মায়াঙ্ক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম

ধরুন, ক্রিকেট আপনার ধ্যানজ্ঞান, আপনার জীবন। আপনি পেয়েছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট ক্রিকেট আসরে খেলার সুযোগ। কিন্তু শুরুতেই বিধিবাম। ইনজুরি নামক খলনায়কের খপ্পড়ে পড়ে দুই দুইটি বছর বসে আছেন বেঞ্চে। এমন অবস্থায় তৃতীয় বছর আপনারই দলের একজন বিদেশী খেলোয়াড় আক্রান্ত হলেন ইনজুরিতে। হুট করেই খোলা মঞ্চে আপনাকে ঠেলে দেওয়া হলো নৈপুণ্য দেখাতে। আপনি মাঠে নামলেন, পরপর দুটি ম্যাচে হলেন ম্যাচসেরা আর দলকে জেতানোর সঙ্গে জাহির করলেন নিজের আত্মপরিচয়। কী পরিমাণ সুন্দর হতে পারে এই মুহূর্তটি। সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো শোনালেও এটিই বাস্তব হয়ে এসেছে ভারতীয় যুবা পেসার মায়াঙ্ক যাদবের জীবনে।

লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের ২১ বছর বয়সী পেসার মায়াঙ্ক যাদব। পাঞ্জাব কিংসের সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে ঘন্টায় ১৫৫.৮ কিলোমিটার গতি তুলে হন আইপিএলের চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ গতির বোলার। ২৭ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করে হন ম্যাচসেরা। পরের ম্যাচে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে আরও গতিশীল মায়াঙ্ক। এবার ১৫৬.৭ কিলোমিটার গতির আরেকটি ডেলিভারিতে ছিল না কোনো ত্রুটি। একদম নিখাদ ও সহজাত। যাতে বুঝে উঠবার আগেই ক্লিন বোল্ড অস্ট্রেলিয়ার ন্যাথান অ্যালিসদের বল সামলে আসা ক্যামেরন গ্রিন। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চতো বটেই আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ দ্রুততম ডেলিভারি সেটি। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষেও ৩ উইকেট শিকার মায়াঙ্কের, ১৪ রানের বিনিময়ে। এ ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড় তিনি, জয় জায়ান্টসের।

দিল্লির প্রভু যাদবের সন্তান মায়াঙ্ক। গাড়ি তৈরির কারখানার কাজ করা প্রভু ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোসের পাঁড় ভক্ত। মায়াঙ্কের বয়স তখন ১৪, অনুশীলন শেষে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অ্যামব্রোসের গল্প শুনিয়েছিলেন প্রভু। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘তাকে অ্যামব্রোসের একটি গল্প বলেছিলাম...তুই জানিস, সবাই ওকে (অ্যামব্রোস) কেন ভয় পেত? কারণ, ও তাদের (ব্যাটসম্যান) মাথায় মারত। তুই–ও যদি ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ঢোকাতে চাস, তাহলে তোকেও একই কাজ করতে হবে। হতে হবে- সার পে মারনেওয়ালা বোলার!’

আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ দ্রুততম বোলার মায়াঙ্ক

দিল্লির ক্রিকেটাঙ্গণেও মায়াঙ্কের সঙ্গে জুড়ে যায় এ বিশেষণ। সার পে মারনেওয়ালা বোলার- অর্থাৎ যে বোলার মাথায় আঘাত করে। আইপিএলে পাঞ্জাব ম্যাচের শেষে তাকে নিয়ে আরেক কিংবদন্তি ব্রেট লি বলেন, ‘ভারত নিজেদের সবচেয়ে গতিময় বোলারকে পেয়ে গেছে। নিখাদ গতি। অসাধারণ।’ গর্বেও বাবার বুকও ভরে ওঠার কথা।

সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মায়াঙ্ক ঘণ্টায় ১৫৩ কিমি গতি তোলার পর নির্বাচকদের নজরে ছিলেন। সেটি গত ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভারতের পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য। আইপিএলের আগেই বড় মঞ্চে আসার সুযোগ ছুটে যায় ফের ইনজুরিতে।

বেঙ্গালুরু সঙ্গে ম্যাচে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার পরও আত্মসচেতন মায়াঙ্ক। বলেন, ‘দুই ম্যাচে দুটি ম্যান অব দা ম্যাচ পেয়ে ভালো লাগছে। তবে আমি বেশি খুশি দুটি ম্যাচেই দল জেতায়। আমার মূল লক্ষ্য দেশের হয়ে খেলা, যত বেশি বছর সম্ভব। এটা তো সবে শুরু, আমার মনোযোগ মূল লক্ষ্যেই।

বয়স ও অভিজ্ঞতা কম থাকলেও ফাস্ট বোলারদের শৃঙ্খলা ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক ব্যাপারগুলো তার জানা আছে ভালোভাবেই। তার বোলিং যেমন পরিণত, তেমনি তার বোধও, ‘এই গতিতে বল করতে অনেক কিছুই থাকতে হয়, যেমন (সঠিক) খাবার, ঘুম ও অনুশীলন। এত জোরে বোলিং করতে হলে সবকিছুতেই নিখুঁত থাকতে হবে। খাবারসহ এসব কিছুতে যেমন আমার লক্ষ্য থাকে, তেমনি রিকভারিও গুরুত্বপূর্ণ, আইস বাথ নেওয়া ও এরকম যা কিছু।’

ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে আইপিএলে যথাক্রমে ২৬ ও ৪২ ম্যাচে দুবার ডেলিভারি করেছেন উমরান মালিক ও আইনরিখ নরখিয়া। আর মাত্র দুই ম্যাচে তিনবার এই গতিতে বল করে ফেলেছেন মায়াঙ্ক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত